ভবানীপুর, ২৯ এপ্রিলঃ ভোটের দ্বিতীয় দফায় ‘হাইভোল্টেজ’ কেন্দ্র ভবানীপুরে উত্তেজনা চরমে উঠল বুধবার। কালীঘাট রোড ও হরিশ মুখার্জি রোডের সংযোগস্থলে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে স্লোগান-পালটা স্লোগানকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় রণক্ষেত্র পরিস্থিতি। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বুথ পরিদর্শনে গেলে তাঁকে লক্ষ্য করে ‘চোর-চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করেন তৃণমূল কর্মীরা। এর জবাবে বিজেপি কর্মীরাও ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনি তুললে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ঘটনার পরেই নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানান শুভেন্দু অধিকারী। তিনি ফোনে দ্রুত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবি করেন। অভিযোগ, কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিশাল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। উত্তেজনা ছত্রভঙ্গ করতে মৃদু লাঠিচার্জ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছন তৃণমূল কাউন্সিলর তথা মুখ্যমন্ত্রীর ভ্রাতৃবধূ কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, “শান্তিপূর্ণ ভোট চলছিল। শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশেই পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী লাঠিচার্জ করেছে।” যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি শিবির।
অন্যদিকে, নিজের উপর হামলার অভিযোগ তুলে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, “বহিরাগতদের এনে আমার উপর আক্রমণ করা হয়েছে।” তবে সেই দাবি সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, “ওনার উপর হামলা হয়েছে প্রমাণ করুন। ভোটারদের প্রভাবিত করতেই এই ধরনের অভিযোগ করা হচ্ছে।”
ভবানীপুর কেন্দ্রে একদিকে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি, অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারী—ফলে সকাল থেকেই রাজনৈতিক উত্তাপ ছিল তুঙ্গে। শুভেন্দু বিভিন্ন বুথ ঘুরে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। পালটা সকাল থেকেই এলাকায় ঘুরে ভোট পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন মুখ্যমন্ত্রীও। তিনি স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলেন এবং বুথ ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখেন।
এই ঘটনার জেরে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তৃণমূল নেতৃত্ব কমিশনের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলেছে। সবমিলিয়ে ভোটের দিন ভবানীপুরে উত্তেজনা ঘিরে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হল।





