পুরুলিয়া, ১৭ এপ্রিলঃ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে জঙ্গলমহলে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) পুরুলিয়া জেলায় তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রচারে নতুন মাত্রা যোগ করতে আসছেন ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আহ্বানে তিনি এদিন জঙ্গলমহলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে জনসভা করবেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, আদিবাসী ভোটব্যাঙ্ককে লক্ষ্য করেই এই কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়েছে তৃণমূল।
সূত্রের খবর, শনিবার বান্দোয়ান, মানবাজার এবং কাশীপুর এই তিনটি বিধানসভা এলাকায় পরপর তিনটি জনসভা করবেন হেমন্ত সোরেন। বান্দোয়ানে জেলা তৃণমূল সভাপতি রাজীবলোচন সোরেন, মানবাজারে বিদায়ী প্রতিমন্ত্রী সন্ধ্যারানি টুডু এবং কাশীপুরে তৃণমূল প্রার্থী সৌমেন বেলথরিয়ার সমর্থনে তিনি প্রচার করবেন। জানা গিয়েছে, তাঁর সঙ্গে তাঁর স্ত্রী কল্পনা সোরেনও থাকতে পারেন।
প্রচারের সূচি অনুযায়ী, প্রথম সভা হবে মানবাজার ২ নম্বর ব্লকের আঁকরো এলাকায়। এরপর পুঞ্চা ব্লকের বদড়া ফুটবল ময়দানে দ্বিতীয় সভা এবং শেষে কাশীপুর ব্লকের ধানাড়া ফুটবল ময়দানে তৃতীয় সভা অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যেই এই তিনটি এলাকায় প্রস্তুতি প্রায় সম্পূর্ণ এবং স্থানীয় স্তরে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
রাজনৈতিকভাবে এই তিনটি কেন্দ্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে বান্দোয়ান ও মানবাজার আসন দুটি তফসিলি উপজাতির জন্য সংরক্ষিত, যেখানে আদিবাসী ভোটারদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। তাই হেমন্ত সোরেনের উপস্থিতি এই এলাকায় তৃণমূলের পক্ষে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
উল্লেখ্য, ঝাড়খণ্ডের রাজনীতিতে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (জেএমএম)-এর প্রভাব যথেষ্ট। অতীতে ঝাড়খণ্ড বিধানসভা নির্বাচনের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি জেএমএম-কে সমর্থন জানিয়েছিলেন। এমনকি ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে হেমন্ত সোরেনের গ্রেফতারির সময়ও তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী। সেই রাজনৈতিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতাতেই এবার বাংলার নির্বাচনে হেমন্ত সোরেনকে প্রচারে নামানো হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঝাড়খণ্ড সংলগ্ন জঙ্গলমহলের আসনগুলিতে জেএমএম-ঘনিষ্ঠ ভোটব্যাঙ্কের প্রভাব রয়েছে। সেই কারণেই হেমন্ত সোরেনকে সামনে রেখে তৃণমূল আদিবাসী ভোটারদের কাছে বার্তা পৌঁছে দিতে চাইছে। পাশাপাশি ঝাড়খণ্ডে বিজেপির প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থতার প্রসঙ্গ তুলে বাংলার ভোটারদের প্রভাবিত করার কৌশলও নেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, জঙ্গলমহলে হেমন্ত সোরেনের এই প্রচার তৃণমূলের নির্বাচনী কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলেই মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার, এই হাইভোল্টেজ প্রচার আদিবাসী অধ্যুষিত এই অঞ্চলগুলিতে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে এবং ভোটের ফলাফলে তার প্রতিফলন ঘটে কি না।





