ত্রিপুরা, ১৭ এপ্রিলঃ ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনোমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (এডিসি) নির্বাচনে বড়সড় ধাক্কা খেল বিজেপি। মোট ২৮টি আসনের এই স্বশাসিত সংস্থার নির্বাচনে এখনও পর্যন্ত মাত্র ৫টি আসনে এগিয়ে রয়েছে গেরুয়া শিবির। অন্যদিকে প্রদ্যোত মাণিক্য দেববর্মার নেতৃত্বাধীন তিপ্রা মোথা একাই ২১টি আসনে এগিয়ে থেকে কার্যত জয়ের দোরগোড়ায়। বাকি আসনগুলিতে এগিয়ে আইপিএফটি এবং কিছু নির্দল প্রার্থী। বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস এই নির্বাচনে কার্যত অস্তিত্বহীন হয়ে পড়েছে।
এই নির্বাচনে বিজেপি একাই লড়াই করার সিদ্ধান্ত নেয়। অথচ রাজ্যে ক্ষমতায় আসার আগে বিজেপির সঙ্গে জোটে ছিল আঞ্চলিক দল আইপিএফটি। পরবর্তীতে তারা এনডিএ-তেও যোগ দেয়। এমনকি একসময় তিপ্রা মোথার সঙ্গেও রাজনৈতিক সমঝোতা ছিল বিজেপির। কিন্তু এডিসি নির্বাচনের আগে আসন সমঝোতা নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হওয়ায় সেই জোট ভেঙে যায়। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিজেপির এই একতরফা সিদ্ধান্তই ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলেছে।
ভোটের প্রচারে বিজেপি সর্বশক্তি প্রয়োগ করেছিল। রাজ্য ও কেন্দ্রীয় স্তরের শীর্ষ নেতারা প্রচারে অংশ নেন। তবে ভোটের দিন জুড়ে অশান্তির একাধিক ঘটনা সামনে আসে। গুলি চালানো, বোমাবাজি এবং বিভিন্ন জায়গায় সংঘর্ষের খবর মেলে। বিশেষ করে তিপ্রা মোথা ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে বহু মানুষ আহত হন। পাশাপাশি, দুপুরের পর একাধিক বুথে ছাপ্পা ভোটের অভিযোগ ওঠে বিজেপির বিরুদ্ধে।
ভোটগ্রহণের হার ৭০ শতাংশেরও বেশি হওয়ায় শুরু থেকেই ফলাফলের দিকে নজর ছিল সবার। গণনা শুরু হতেই স্পষ্ট হয়ে যায় তিপ্রা মোথার প্রাধান্য। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ত্রিপুরায় এই ফলাফল বাংলার নির্বাচনী রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষত যখন বিজেপি ত্রিপুরাকে উন্নয়নের মডেল হিসেবে তুলে ধরছে।





