মালদা, ৩ এপ্রিলঃ ভোটের আবহে দক্ষিণ দিনাজপুরের হরিরামপুরে জনসভা থেকে তীব্র আক্রমণ শানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মালদহের সাম্প্রতিক অশান্তির ঘটনায় ‘মূল অভিযুক্ত’ গ্রেপ্তার হওয়া নিয়ে তিনি রাজ্যের সিআইডিকে কৃতিত্ব দেন এবং বিজেপি ও মিমকে একযোগে নিশানা করেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মালদহের ঘটনায় যে মূলচক্রী, তাকে গ্রেপ্তার করেছে আমাদের সিআইডি। এনআইএ আসার আগেই বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে ধরা হয়েছে।” তাঁর দাবি, বহিরাগতদের এনে বাংলায় অশান্তি ছড়ানোর ছক কষা হয়েছিল। এই প্রসঙ্গে তিনি মোফাক্কেরুল ইসলাম-এর গ্রেপ্তারের কথাও উল্লেখ করেন।
মিম ও অন্যান্য ছোট রাজনৈতিক দলকে কটাক্ষ করে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, “হায়দ্রাবাদ থেকে লোক এনে এখানে গোলমাল করা হচ্ছে। এর সঙ্গে কিছু সাম্প্রদায়িক শক্তিও যুক্ত।” পাশাপাশি কংগ্রেসকেও আক্রমণ করে তিনি অভিযোগ করেন, ভোট কাটার রাজনীতির জন্যই এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।
এসআইআর এবং ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিতর্ক নিয়েও সরব হন মমতা। তিনি সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলেন, “কেউ যদি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর চায় টাকা দেওয়ার নামে, ভুলেও দেবেন না। প্রতারণার চেষ্টা চলছে।” একই সঙ্গে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ভোটের সময় বাইরে থেকে লোক এনে অশান্তি তৈরির চেষ্টা হতে পারে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-কে কটাক্ষ করে মমতা বলেন, “ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। যত বেশি মানুষ ওঁকে দেখবে, ততই বিজেপির ক্ষতি হবে।” বিজেপিকে আক্রমণ করে তিনি আরও বলেন, “বাংলাকে বঞ্চনা ও লাঞ্ছনার শিকার করেছে কেন্দ্র।”
বালুরঘাটে বিজেপির প্রার্থী পরিবর্তন নিয়েও কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “ভালো মানুষকে টিকিট দেয় না বিজেপি।” পাশাপাশি রাজ্যের উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কথাও তুলে ধরেন তিনি। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কাঁচা বাড়ি পাকা করা সহ একাধিক প্রকল্পের উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, “আমরা বলে নয়, কাজ করে দেখাই।”
এরপর উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের সভা থেকেও বিজেপির বিরুদ্ধে একই সুরে আক্রমণ চালান তিনি। অভিযোগ করেন, “বাইরের লোক এনে টাকা ও গুন্ডা দিয়ে বাংলার পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা চলছে।”
সব মিলিয়ে, একাধিক জনসভা থেকে বিজেপি, মিম ও কংগ্রেসকে একযোগে নিশানা করে নির্বাচনী লড়াইকে আরও তীব্র করে তুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।





