কলকাতা, ৩ এপ্রিলঃ রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। এই আবহে নির্বাচন কমিশন, বিজেপি এবং কেন্দ্রীয় সংস্থার বিরুদ্ধে সরব হল তৃণমূল কংগ্রেস। শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা এবং তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ একাধিক ইস্যুতে সরাসরি আক্রমণ শানান বিরোধী শিবিরের বিরুদ্ধে।
শশী পাঁজা অভিযোগ করেন, মালদহ, মুর্শিদাবাদ এবং উত্তর দিনাজপুরের মতো জেলাগুলিতে বিপুল সংখ্যক ভোটারকে ‘অ্যাডজুডিকেশন’-এ রেখে তাদের ভোটাধিকার খর্ব করার চেষ্টা চলছে। তাঁর দাবি, নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি যৌথভাবে এই পরিস্থিতি তৈরি করেছে। তিনি বলেন, “লক্ষ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠলে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হবেই। সেই ক্ষোভকেই রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগাচ্ছে বিজেপি।”
এছাড়াও তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপির এজেন্টরা বিপুল পরিমাণ ‘ফর্ম সিক্স’ জমা দিয়ে ভোটার তালিকার গঠন বদলানোর চেষ্টা করছে। ভিন রাজ্যের ভোটারদের নাম যুক্ত করা হচ্ছে এবং স্থানীয় বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। তৃণমূলের প্রতিনিধি দল এই সংক্রান্ত সিসিটিভি ফুটেজ চাইলেও তা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তোলেন শশী পাঁজা। তাঁর কথায়, “তৃণমূল জালিয়াতি ধরে ফেলেছে বলেই এখন কমিশন ভয় পাচ্ছে।”
এদিন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের মন্তব্যেরও কড়া জবাব দেন শশী পাঁজা। তিনি বলেন, “যে ছবি দেখানো হচ্ছে, তার সাল উল্লেখ করা হোক। একইভাবে আমরা শুভেন্দু অধিকারীর পুরনো ছবি তুলে ধরতে পারি।” পাশাপাশি কংগ্রেসের ভূমিকাকেও কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “মালদহ ও মুর্শিদাবাদে কংগ্রেস কার্যত নিষ্ক্রিয়। সাধারণ মানুষের ক্ষোভ তাদের দিকেই যাবে।”
অন্যদিকে, তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির ভূমিকাকে প্রশ্নের মুখে তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন, ভোটের মাঝেই তৃণমূল নেতাদের ইডি ও সিবিআই তলব করে তাঁদের প্রচারে বাধা দেওয়া হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, “এত পুরনো মামলার কথা হঠাৎ ভোটের সময় কেন মনে পড়ছে? এটা স্পষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
কুণাল ঘোষ আরও বলেন, তৃণমূল কর্মীদের পুলিশি নোটিশ পাঠিয়ে ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, যারা ভোটার তালিকা সংক্রান্ত অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছেন, তাঁদেরই টার্গেট করা হচ্ছে।
সাংবাদিক বৈঠকের শেষ দিকে নির্বাচন কমিশনকে উদ্দেশ্য করে কটাক্ষ ছুঁড়ে দেন কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, “ভোটগণনার পর কমিশনের কর্তারা যেন কলকাতায় থাকেন। আমরা তাঁদের বাংলার স্পেশাল রসগোল্লা খাওয়াব।” একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যে কার্যত ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’ জারি করে নির্বাচন পরিচালনা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ভোটের আগে কমিশন ও কেন্দ্রীয় সংস্থার ভূমিকা নিয়ে তৃণমূলের এই তীব্র আক্রমণ রাজ্যের রাজনৈতিক লড়াইকে আরও তীব্র করে তুলেছে।





