খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১৪ মার্চঃ মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল আকার নিচ্ছে। সাম্প্রতিক সংঘাতে সৌদি আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। জানা গিয়েছে, সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটি-এ তখন পাঁচটি মার্কিন ট্যাঙ্কার বিমানে জ্বালানি ভরার কাজ চলছিল। সেই সময়ই ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র সেখানে আছড়ে পড়ে।
মার্কিন সূত্রে জানানো হয়েছে, হামলায় বিমানগুলি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়নি, তবে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে দ্রুত সেগুলি মেরামতের কাজ চলছে। এই হামলায় কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ।
এদিকে পাল্টা জবাব হিসেবে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খড়গ দ্বীপ-এ হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের উপকূল থেকে প্রায় ৩৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই দ্বীপটি তেহরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এখান থেকেই ইরানের অধিকাংশ অপরিশোধিত তেল বিদেশে পাঠানো হয়। ফলে এই দ্বীপে আঘাত মানে ইরানের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে মার্কিন নেতৃত্বের দাবি, তারা ইতিমধ্যেই ইরানের অন্তত ১৫ হাজার সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগ করা হয়েছে যে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে গিয়েছে এবং নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনি গুরুতর জখম হয়েছেন।
প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা সংঘর্ষের জেরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহে বড়সড় সংকট তৈরি হয়েছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কর্পস স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছে হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোনও তেলবাহী জাহাজকে যেতে দেওয়া হবে না।
সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় অস্থিরতা তৈরি করেছে এবং পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।





