কলকাতা, ১০ মার্চঃ আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচারের কৌশলে বদল আনছে বিজেপি। বড় মিছিল বা সভার বদলে এবার গ্রামবাংলার অলিগলিতে ঢুকে সরাসরি মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর নির্দেশ এসেছে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে। দিল্লি থেকে রাজ্য নেতৃত্বকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, শুধুমাত্র রাজপথে মিছিল করলেই হবে না ভোটারদের ঘরে ঢুকে তাদের সঙ্গে কথা বলতে হবে এবং পরিবর্তন যাত্রার লক্ষ্য বোঝাতে হবে।
দলের নির্দেশ অনুযায়ী, নেতাকর্মীদের গ্রামে গ্রামে বাড়িতে গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে গল্পের ছলে কথা বলতে হবে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে বাড়িতে ঢুকে জল খেতে চাওয়ার মতো সহজ উপায়ে আলাপচারিতা শুরু করার কথাও বলা হয়েছে। শুধু লিফলেট হাতে ধরিয়ে দিলেই যে মানুষের মন জয় করা সম্ভব নয়, তা মনে করিয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। অনেকটা অতীতে সিপিএমের ব্যবহৃত জনসংযোগ কৌশলের ধাঁচেই এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের মত।
বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এই প্রক্রিয়ায় ইতিমধ্যেই গোপনে প্রায় দেড় লক্ষ ছোট বৈঠক বা মিটিং সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে রাজ্যের নয়টি জায়গা থেকে ‘পরিবর্তন যাত্রা’র রথ চলছে। এই যাত্রা প্রায় পাঁচ হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করবে এবং ২৫০টি বিধানসভা এলাকাকে ছুঁয়ে যাবে। পাশাপাশি ৩০০-র বেশি ছোট ছোট সভারও আয়োজন করা হয়েছে।
এর পাশাপাশি দলের নেতাদের প্রতিদিন অন্তত পাঁচটি করে বুথ এলাকায় ঘুরে কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গ্রাম বা পাড়ার মানুষের সঙ্গে কথা বলে কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির সুবিধা সম্পর্কেও তাঁদের বোঝাতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে স্থানীয় মন্দিরে গিয়ে পুজো দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে নেতাদের।
এবারের নির্বাচনী ইস্তেহার তৈরিতেও নতুন কৌশল নিয়েছে বিজেপি। সাধারণ মানুষের মতামত নেওয়ার জন্য বিভিন্ন জায়গায় বিশেষ বাক্স ও ফর্ম রাখা হয়েছে। শুধু রাজ্যস্তরের প্রতিশ্রুতি নয়, স্থানীয় সমস্যার সমাধান ও এলাকার চাহিদাও ইস্তেহারে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ভোটের আর মাত্র দেড় মাস বাকি থাকায় এই শেষ মুহূর্তের জনসংযোগ কৌশল কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়ে দলের অন্দরেই কিছুটা সংশয় দেখা দিয়েছে।





