কলকাতা, ১০ মার্চঃ আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে ইভিএমে কারচুপির অভিযোগ নিয়ে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। মহারাষ্ট্র ও বিহার নির্বাচনের সময় থেকেই বিরোধী দলগুলি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ‘ভোটচুরি’র অভিযোগ তুলছে। এমন পরিস্থিতিতে সোমবার ধর্মতলার ধরনামঞ্চ থেকে ইভিএমে কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বিতর্কের মাঝেই মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্বচ্ছ ভোট প্রক্রিয়ার আশ্বাস দিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।
শহরের একটি পাঁচতারা হোটেলে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে জ্ঞানেশ কুমার বলেন, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করানোই নির্বাচন কমিশনের প্রধান লক্ষ্য। তিনি জানান, ভোট প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ রাখতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ভোটগ্রহণের দিন প্রতি দু’ঘণ্টা অন্তর ভোটদানের হার প্রকাশ করা হবে। ভোটের হার নিয়ে কোনও প্রশ্ন উঠলে ইভিএমের পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা করা হবে এবং ভিভিপ্যাটও যাচাই করা হবে। এই পুরো প্রক্রিয়া কাউন্টিং এজেন্টদের উপস্থিতিতেই সম্পন্ন হবে বলে জানান তিনি।
এছাড়াও কমিশন জানিয়েছে, ভোট গণনার পর কোনও প্রার্থী যদি ফলাফল নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন, তাহলে তিনি ইভিএম পরীক্ষা করার আবেদন করতে পারবেন। সেই ক্ষেত্রে ভোটের ফল ঘোষণার সাত দিনের মধ্যেই ইভিএম পরীক্ষা করার সুযোগ দেওয়া হবে।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার আরও জানান, পশ্চিমবঙ্গে এবারের নির্বাচনে ৮০ হাজারেরও বেশি বুথ থাকবে। তবে কোনও বুথেই ১২০০-র বেশি ভোটার রাখা হবে না। প্রতিটি বুথে থাকবে বিশেষ সহায়তা কেন্দ্র এবং অভিযোগ জানানোর জন্য নির্দিষ্ট নম্বর। যে কোনও রাজনৈতিক দল বা ভোটার সেই নম্বরে ফোন করে অভিযোগ জানাতে পারবেন।
স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সমস্ত ভোটকেন্দ্রে ওয়েবকাস্টিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে এবং পুরো প্রক্রিয়া কমিশনের তরফে নজরদারিতে রাখা হবে। নিরাপত্তার স্বার্থে ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করা যাবে না বলেও জানানো হয়েছে।
জ্ঞানেশ কুমার জানান, প্রতি দু’ঘণ্টায় প্রকাশিত ভোটদানের হারসহ নির্বাচনের বিভিন্ন তথ্য ‘ECINET’ অ্যাপে পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে ভোটারদের এপিক কার্ড, প্রার্থীদের তথ্যসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও এই অ্যাপের মাধ্যমে জানা যাবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।





