কলকাতা, ১০ মার্চঃ এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে দলের শীর্ষ নেতারা কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে জ্ঞানেশ কুমার স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, রাজনৈতিক আক্রমণ নিয়ে তিনি কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে চান না। তাঁর কথায়, “ভারত একটি গণতান্ত্রিক দেশ। এখানে সকলের বাকস্বাধীনতা রয়েছে। রাজনৈতিক দল যা খুশি বলতে পারে।”
ভোটের কয়েক মাস আগে কেন বাংলায় এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু করা হল, তা নিয়ে প্রথম থেকেই সরব ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই প্রক্রিয়ায় একাধিক সমস্যার কথা তুলে ধরে তিনি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে মোট ছয়টি চিঠি পাঠিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। তবে সেই চিঠিগুলির একটিরও উত্তর মেলেনি বলে দাবি তৃণমূলের। এই বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার প্রকাশ্যে ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
পরবর্তীতে এসআইআর ইস্যুতে মৃত ভোটারদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দপ্তরেও যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে জ্ঞানেশ কুমার দুর্ব্যবহার করেছেন বলেও অভিযোগ ওঠে। বৈঠক শেষে কমিশনারের আচরণ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন তৃণমূল নেতৃত্ব।
সোমবার কলকাতায় নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠকেও উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের প্রতিনিধিরা। বৈঠকে ছিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, ফিরহাদ হাকিম এবং রাজীব কুমার। বৈঠক শেষে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য অভিযোগ করেন, আলোচনার সময় জ্ঞানেশ কুমার একাই কথা বলেছেন এবং পরে ক্ষিপ্ত হয়ে চিৎকারও করেছেন।
তবে এসব অভিযোগের জবাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার স্পষ্ট করেন, রাজনৈতিক মন্তব্যের উত্তর দেওয়া কমিশনের কাজ নয়। তিনি বলেন, কমিশন সংবিধান অনুযায়ী কাজ করে এবং রাজনৈতিক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানানো তাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট, চলমান বিতর্ক নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে তিনি আগ্রহী নন।





