কলকাতা, ১০ মার্চঃ আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে দিল্লি থেকে কলকাতায় এসেছে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। সোমবার দিনভর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। সেই সময়ই ধর্মতলার ধরনামঞ্চ থেকে কমিশন এবং বিজেপির বিরুদ্ধে একের পর এক তীব্র অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মমতার অভিযোগ, বিজেপি রাজনৈতিকভাবে বাংলায় সফল হতে না পেরে চক্রান্তের আশ্রয় নিয়েছে। তাঁর দাবি, এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বহু বৈধ ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “রাজনৈতিকভাবে কিছু করতে পারেনি বলেই চক্রান্ত করে এসআইআর করে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দিয়েছে।” পাশাপাশি ইভিএমে কারচুপির আশঙ্কাও প্রকাশ করেন তিনি। মমতার দাবি, এ বিষয়ে তিনি আগাম তথ্য পেয়েছেন এবং সেই অনুযায়ী সতর্কতাও নেওয়া হবে।
বিজেপিকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “গণতন্ত্রে গ্রহণ লাগিয়েছে এরা।” একই সঙ্গে নতুন স্লোগানও তোলেন তিনি “যতই ডাকো ইডি সিবিআই, ছাব্বিশে ভোটে হবে বাই বাই।”
এসআইআর প্রক্রিয়ার পরেও বর্তমানে রাজ্যে প্রায় ৫০ লক্ষ ভোটারের নাম বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে বলে দাবি তৃণমূলের। অভিযোগ, প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়ার পরও অনেকের নাম বাদ পড়েছে। এই ইস্যুতেই ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে গত শুক্রবার থেকে ধর্মতলায় ধরনায় বসেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি নিজেও ধরনামঞ্চে অবস্থান করছেন।
ধরনামঞ্চ থেকেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “অনেককে ধমকাচ্ছেন, বলছেন মে মাসের পরও ব্যবস্থা নেবেন। আমি বলি, মে মাসের পর আপনি থাকবেন তো চেয়ারে?” পাশাপাশি অভিযোগ তোলেন যে বৈঠকে বাংলার প্রশাসনিক আধিকারিকদেরও হুমকি দেওয়া হয়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, ভোটের আগে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, “মানুষের ভোটে জিততে চাইলে আগে মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিন। যাঁদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে, তাঁরা সবাই ভারতীয় নাগরিক তাঁদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।”





