কলকাতা, ৯ মার্চঃ ভোটের আগে রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তাপের আবহেই সোমবার কলকাতায় নির্বাচন কমিশন-এর ফুলবেঞ্চের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। এই বৈঠকে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস-এর প্রতিনিধি দলে সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ছেন প্রাক্তন পুলিশকর্তা রাজীব কুমার। রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হওয়ার পর এই প্রথম কোনও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি সরাসরি কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিতে চলেছেন।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-এর সঙ্গে বৈঠকে তৃণমূলের তিন সদস্যের প্রতিনিধি দলে থাকছেন রাজীব কুমার। তাঁর সঙ্গে থাকবেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম এবং চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন রাজীব কুমারকে সামনে রেখে আইনি ও প্রযুক্তিগত দিক থেকে নির্বাচন কমিশনকে চাপে ফেলতেই এই কৌশল নিয়েছে শাসকদল।
জানা গিয়েছে, তিন দিনের সফরে রবিবার রাতেই কলকাতায় পৌঁছেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী । সোমবার সকালে তিনি কালীঘাট কালী মন্দির-এ পুজো দেওয়ার পর সকাল ১০টা থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক শুরু হবে। পরবর্তী দুই দিন রাজ্যের প্রশাসনিক ও পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকের সূচি রয়েছে কমিশনের।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে সরব রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি । তাঁর অভিযোগ, ‘লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি’-র অজুহাতে লক্ষাধিক বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই ইস্যুতে তিনি কলকাতার ধর্মতলায় অবস্থান-বিক্ষোভেও বসেছেন। তাঁর দাবি, প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার এখন অনিশ্চয়তার মুখে।
সূত্রের খবর, সোমবারের বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেস ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে কমিশনের কাছে জোরালোভাবে প্রশ্ন তুলতে পারে। অন্যদিকে ভারতীয় জনতা পার্টি-ও বৈঠকে অংশ নিয়ে ‘ফর্ম ৭’-এর মাধ্যমে নাম বাদ দেওয়ার আবেদন এবং তার নিষ্পত্তি সংক্রান্ত বিষয়গুলি নিয়ে কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে। সব মিলিয়ে এই বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র আগ্রহ তৈরি হয়েছে।





