নয়াদিল্লি, ৯ মার্চঃ মধ্যপ্রাচ্যে চলতে থাকা যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লাগল। তার প্রভাব এবার স্পষ্টভাবে পড়ল ভারতীয় মুদ্রাতেও। সোমবার সকালে লেনদেন শুরুতেই মার্কিন ডলারের তুলনায় ভারতীয় টাকার দর নেমে দাঁড়ায় ৯২.৩০ টাকায়, যা এখনও পর্যন্ত সর্বকালের সর্বনিম্ন স্তর বলে মনে করা হচ্ছে।
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বজুড়ে অস্থির পরিস্থিতি, অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাজার থেকে অর্থ তুলে নেওয়ার প্রবণতা এই তিনটি কারণই মূলত ভারতীয় মুদ্রাকে দুর্বল করে তুলছে। এর প্রভাব পড়েছে শেয়ার বাজারেও। সোমবার সকালে বিএসই সেনসেক্স প্রায় ২,১৭৭.৬১ পয়েন্ট পড়ে যায়। একইভাবে নিফটি 50 সূচকও ৬৪৭.৬০ পয়েন্ট নেমে যায়। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশেষ করে ব্যাঙ্কিং, আইটি এবং ধাতব শিল্পের শেয়ার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৪ মার্চ প্রথমবার যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে ভারতীয় মুদ্রা ৯২ টাকার গণ্ডি পেরিয়ে যায়। সেদিন ডলারের দাম দাঁড়িয়েছিল ৯২.১৭ টাকা। সোমবার তা আরও বেড়ে ৯২.৩০ টাকায় পৌঁছেছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং তেলের দাম আরও বাড়তে থাকে, তাহলে টাকার দর আরও দুর্বল হতে পারে।
পরিস্থিতির সূত্রপাত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালায়। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আলী খামেনি -এর মৃত্যুর খবর সামনে আসে। এরপর পাল্টা হামলা শুরু করে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে মার্কিন সেনাঘাঁটি ও ইজরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
এই সংঘাতের জেরে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থাও বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা বেড়েছে এবং তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতীয় অর্থনীতি ও মুদ্রাবাজারে।





