খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ৮ মার্চঃ বিধানসভা নির্বাচনের আগে হুগলির পুরশুড়া বিধানসভা এলাকায় প্রকাশ্যে এল বিজেপির অন্দরের তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। দলেরই এক দীর্ঘদিনের কর্মী ও আরএসএস সদস্য খোদ বিজেপি বিধায়ক বিমান ঘোষের বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন। অভিযোগ ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনায় পুরশুড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন অভিযোগকারী।
অভিযোগকারী সুশান্ত সরকার হুগলির কামারপুকুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি নিজেকে দীর্ঘদিনের আরএসএস কর্মী এবং বিজেপির সমর্থক বলে দাবি করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ২০২০ সালে ব্যক্তিগত প্রয়োজনের কথা জানিয়ে তাঁর কাছ থেকে ৩ লক্ষ টাকা ধার নিয়েছিলেন পুরশুড়ার বিজেপি বিধায়ক বিমান ঘোষ। সেই সময় খুব দ্রুত টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি তাঁর।
কিন্তু অভিযোগ, সময় গড়ালেও সেই টাকা আর ফেরত পাননি তিনি। সুশান্ত সরকারের দাবি, গত ছয় বছর ধরে একাধিকবার টাকা ফেরতের জন্য বিধায়কের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছেন। কখনও ফোনে, কখনও সরাসরি দেখা করে বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলেও জানান তিনি। কিন্তু প্রতিবারই নানা অজুহাতে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
শেষপর্যন্ত আর কোনও উপায় না দেখে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন সুশান্ত সরকার। পুরশুড়া থানায় বিধায়ক বিমান ঘোষের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে তিনি আইনি পদক্ষেপের আবেদন জানিয়েছেন। এই অভিযোগ সামনে আসতেই পুরশুড়া এবং আরামবাগ মহলের রাজনৈতিক পরিবেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
শুধু আর্থিক প্রতারণার অভিযোগেই থেমে থাকেননি সুশান্তবাবু। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বিমান ঘোষকে বিজেপির প্রার্থী না করার দাবিও তুলেছেন তিনি। ইতিমধ্যেই দলীয় নেতৃত্বের কাছেও এই বিষয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন বলে দাবি তাঁর।
ক্ষোভ প্রকাশ করে সুশান্ত সরকার বলেন, “আমার সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে টাকা ফেরতের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে কিছুই হয়নি। এমন একজন ব্যক্তি যদি আবার বিধায়ক হন, তাহলে পুরশুড়ার মানুষের কী অবস্থা হবে তা সহজেই বোঝা যায়।” তিনি বিধায়ককে দুর্নীতিগ্রস্ত বলেও কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপির অন্দরের দ্বন্দ্ব আরও একবার প্রকাশ্যে এল বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি বিজেপি বিধায়ক বিমান ঘোষ। ফলে অভিযোগের সত্যতা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক তরজা।





