কলকাতা, ৮ মার্চঃ আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্য প্রশাসনে বড়সড় রদবদলের নির্দেশ জারি করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার-এর প্রশাসনিক সদর দপ্তর নবান্ন। পাহাড় থেকে সমতল-সমগ্র রাজ্য জুড়ে মোট ১২৪ জন ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসার (বিডিও)-এর বদলির নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়েছে। গত ৬ মার্চ এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের দ্রুত নতুন কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনে যাঁরা দীর্ঘদিন একই জায়গায় কর্মরত ছিলেন, তাঁদের অনেককেই অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। সাধারণত তিন বছরের বেশি সময় এক জায়গায় দায়িত্ব পালন করলে নির্বাচনের আগে সেই আধিকারিকদের স্থানান্তর করার বিধান রয়েছে।
এদিকে প্রশাসনের উচ্চস্তরেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বদলির সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। কর্মিবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দপ্তরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক শশাঙ্ক শেখর-কে বদলি করে নেতাজি সুভাষ প্রশাসনিক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট-এর অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর জেনারেলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
একইসঙ্গে আলিপুরদুয়ারের জেলাশাসক আর বিমলা-কে পশ্চিমবঙ্গ ক্ষুদ্র শিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর পদে নিয়োগ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ল্যান্ড রেকর্ডস অ্যান্ড সার্ভে দপ্তরের ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত বিভু গোয়েল-কে বদলি করে রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দপ্তরের সর্বশিক্ষা মিশন-এর স্টেট প্রজেক্ট ডিরেক্টর করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, নির্বাচন উপলক্ষে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে একাধিক পদে কর্মরত আধিকারিকদের বদলির নির্দেশ দিয়েছিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। সেই নির্দেশে বলা হয়েছিল, বিডিও থেকে শুরু করে মহকুমা শাসক, জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসকসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের আধিকারিকদের বদলি করতে হবে। একইসঙ্গে পুলিশ প্রশাসনের ক্ষেত্রেও এসপি, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, আইজি ও ডিআইজির মতো পদে কর্মরত অফিসারদের স্থানান্তরের কথা উল্লেখ করা হয়।
তবে রাজ্য প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এই বদলিগুলি স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই করা হয়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও সক্রিয় ও গতিশীল করার উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের আগে প্রশাসনে এই ধরনের অদলবদল নতুন নয়। তবে এত বড় সংখ্যক বিডিও বদলির ঘটনায় রাজ্যের প্রশাসনিক মহলে যথেষ্ট আলোড়ন তৈরি হয়েছে।





