খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ৭ মার্চঃ রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের আগে এসআইআর ইস্যুতে ধর্মতলার ধর্নামঞ্চ থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুললেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। শনিবার ধর্নার দ্বিতীয় দিনে তিনি দাবি করেন, বাংলা ও বিহারকে ভাগ করে আলাদা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল তৈরির পরিকল্পনা করছে কেন্দ্র। যদিও কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে জানানো হয়েছে।
এসআইআর বা ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগ তুলে এই ধর্না কর্মসূচি শুরু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতির প্রতিবাদেই তিনি ধর্মতলায় ধর্নায় বসেছেন।
এদিন ধর্নামঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি খবর ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে যে বাংলা ও বিহারকে ভাগ করে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করা হবে। সেই প্রসঙ্গে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “শয়তানরাই কাউকে কাউকে এই বিষয়টি খাইয়েছে। বাংলা–বিহার ভাগ করে নাকি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হবে! আমি বলি, একবার বাংলায় হাত দিয়ে দেখাক।” তাঁর অভিযোগ, ভোটের আগে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতেই এই ধরনের প্রচার চালানো হচ্ছে।
এছাড়াও ধর্নামঞ্চ থেকেই কেন্দ্রীয় সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-কে কটাক্ষ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এত অহংকার কীসের?” তাঁর দাবি, অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন. চন্দ্রবাবু নাইডু-র সমর্থনেই বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার টিকে রয়েছে।
রাজ্যপাল ইস্যুতেও সরব হন তিনি। প্রাক্তন রাজ্যপাল সি. ভি. আনন্দ বোস-কে কেন সরানো হয়েছে তা তিনি জানেন বলে দাবি করেন। পাশাপাশি নতুন রাজ্যপাল আর. এন. রবি-কে কটাক্ষ করে তাঁকে “বিজেপির প্যারেড করা ক্যাডার” বলেও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।
ধর্মতলার এই ধর্নামঞ্চ থেকেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে আক্রমণ শানিয়ে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান আরও স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।





