কোচবিহার, ২ মার্চঃ ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে কোচবিহারে নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধছে। এসআইআর প্রক্রিয়ার পর প্রকাশিত খসড়া তালিকায় ফর্ম ৭ জমা ও বিচারাধীন ভোটারের সংখ্যায় বড়সড় অমিলের অভিযোগ তুললেন কোচবিহার এমজেএন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির জনপ্রতিনিধি অভিজিৎ দে ভৌমিক।
অভিজিৎবাবুর দাবি, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সারা রাজ্যে মোট ৪১,৯৬১টি ফর্ম ৭ জমা পড়েছিল। কিন্তু ২৮ ফেব্রুয়ারি খসড়া তালিকা প্রকাশের সময় দেখা যায় সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫,৪৬,০৫৩। তাঁর প্রশ্ন, অতিরিক্ত ৫,০৪,০৯২টি ফর্ম ৭ কে বা কারা জমা দিল? কোচবিহারের ক্ষেত্রেও একই অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে। যেখানে ৬৫২টি ফর্ম ৭ জমা পড়ার কথা, সেখানে চূড়ান্ত হিসেবে দেখানো হয়েছে ৯,৬১৫টি ফর্ম। এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধির ব্যাখ্যা জেলা নির্বাচন আধিকারিক বা ভারতের নির্বাচন কমিশন দিতে পারেননি বলেই দাবি তাঁর।
তিনি আরও জানান, কোচবিহারে প্রায় ৪ লক্ষ ২০ হাজার ভোটারের তথ্য যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হয়েছিল। স্থানীয় ডিও ও ইআরওরা প্রায় ৩ লক্ষ নাম যাচাই করে আপডেট করেছেন। সেই অনুযায়ী কমিশন থেকে ফেরত আসার কথা ছিল আনুমানিক ১ লক্ষ ২০ হাজার নাম। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে প্রায় ৩ লক্ষ ৩৭ হাজার ভোটারকে ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ তালিকায় ফেলা হয়েছে। এতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, অতিরিক্ত প্রায় ১ লক্ষ নাম কোথা থেকে যুক্ত হল?
নতুন ভোটার সংক্রান্ত তথ্যেও অসঙ্গতির অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ফর্ম ৬-এর মাধ্যমে ৩৫ হাজার নতুন আবেদন জমা পড়েছিল। কিন্তু তার মধ্যে ৬,২০০টি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। বাকি প্রায় ২৯ হাজার আবেদনকারীর অবস্থান নিয়েও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে স্বচ্ছতা বজায় রেখে নির্বাচন কমিশনের কাছে পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা দাবি করেছেন অভিজিৎ দে ভৌমিক। তাঁর কথায়, প্রকৃত ভোটারের নাম যেন অযথা ঝুলে না থাকে, তা নিশ্চিত করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।





