খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২ মার্চঃ মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্ব জুড়ে তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ইরান-কে ঘিরে সংঘাত বাড়তে থাকায় সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের জায়গা হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালী। ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর মাঝখানে অবস্থিত এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়েই বিশ্বের মোট অশোধিত তেলের প্রায় ২০-২২ শতাংশ পরিবহণ হয়। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, যুদ্ধের জেরে এই রুট বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্ব অর্থনীতির পাশাপাশি বড় ধাক্কা খেতে পারে ভারতও।
কারণ, ভারতের আমদানিকৃত তেলের প্রায় ৫০ শতাংশই আসে হরমুজ প্রণালী হয়ে। এই পথ বন্ধ হয়ে গেলে বিদেশ থেকে তেল সরবরাহ কার্যত থমকে যেতে পারে। তার প্রভাব পড়বে দেশের দৈনন্দিন জীবনে। পেট্রল, ডিজেল, কেরোসিন থেকে শুরু করে এলপিজি সবই অশোধিত তেল প্রক্রিয়াকরণের ফল। যানবাহন চলাচল, রান্নার গ্যাস, শিল্পক্ষেত্র, ন্যাপথা ও অ্যাসফল্ট উৎপাদন সর্বত্রই আমদানিকৃত তেলের উপর নির্ভরশীল ভারত।
এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, আমদানি ব্যাহত হলে কীভাবে চাহিদা মেটাবে দেশ? সম্প্রতি পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী জানিয়েছিলেন, ভারতীয় শোধনাগারগুলির কাছে সর্বোচ্চ ৭৪ দিনের তেল মজুত রাখার সক্ষমতা রয়েছে। তাঁর মতে, আপাতত উদ্বেগের কারণ নেই। তবে বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে সমস্যা বাড়তে পারে।
আরও একটি বড় আশঙ্কা তেলের দাম বৃদ্ধি। যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিমধ্যেই দাম ঊর্ধ্বমুখী। অতিরিক্ত চাপ এড়াতে ভারত রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বাড়াতে পারে বলেও মত বিশেষজ্ঞদের একাংশের। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর গোটা বিশ্বের।





