নয়াদিল্লি, ২৭ ফেব্রুয়ারিঃ ফের প্রশ্নের মুখে রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা। উত্তর দিল্লির সাময়পুর বাদলি এলাকায় নিজের ঘর থেকেই উদ্ধার হল এক মহিলা ও তাঁর তিন শিশুকন্যার গলা কাটা দেহ। মঙ্গলবার গভীর রাতে চন্দন পার্ক এলাকায় এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজ মৃতার স্বামী।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত মহিলার নাম অনিতা। তাঁর তিন মেয়ের বয়স সাত, পাঁচ ও তিন বছর। স্থানীয়দের দাবি, রাতে বাড়ি থেকে বাচ্চাদের কান্নার আওয়াজ শোনা যায়। পরে এক প্রতিবেশী দরজার নিচ দিয়ে রক্ত বেরোতে দেখে পুলিশে খবর দেন। দিল্লি পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে চারটি রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে। প্রত্যেকের গলা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কাটা ছিল। দেহগুলি ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, পারিবারিক অশান্তির জেরে এই হত্যাকাণ্ড। অভিযুক্ত হিসেবে মৃতার স্বামীকেই সন্দেহ করা হচ্ছে। তাঁর খোঁজে একাধিক জায়গায় তল্লাশি ও নাকা চেকিং শুরু হয়েছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-কে নিশানা করেছে। সামাজিক মাধ্যমে তৃণমূলের দাবি, রাজধানীতেই যদি ঘরের ভিতর নিরাপত্তা না থাকে, তবে নারী সুরক্ষা নিয়ে বড় বড় দাবির অর্থ কী? বিজেপির ‘বেটি বাঁচাও’ স্লোগান নিয়েও কটাক্ষ করা হয়েছে।
দিল্লির আইনশৃঙ্খলা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীন এই প্রসঙ্গ তুলে তৃণমূলের প্রশ্ন, রাজধানীতে এমন ঘটনা ঘটলে দায় এড়ানো যায় কি? পাশাপাশি জাতীয় মহিলা কমিশন-এর ভূমিকাও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। তদন্তে নেমেছে পুলিশ, তবে ঘটনায় দেশজুড়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে।





