খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২২ ফেব্রুয়ারিঃ রাজ্য সরকারের নতুন প্রকল্প ‘যুব সাথী’-তে কারা আবেদন করতে পারবেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছেই না। সম্প্রতি প্রকল্পের নিয়মাবলীতে একাধিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিশেষ করে অনলাইন আবেদনের ক্ষেত্রে নথি আপলোডের পদ্ধতিতে বদল এবং কৃষকবন্ধু প্রকল্পের উপভোক্তাদের যোগ্যতা নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, আবেদন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতেই ডকুমেন্ট আপলোডের নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে কেবলমাত্র অরিজিনাল নথির স্ক্যান কপি আপলোড করলেই চলত। এখন থেকে তা আর যথেষ্ট নয়। আবেদনকারীকে নথির জেরক্স কপিতে নিজস্ব সই করে সেল্ফ অ্যাটেস্টেড করতে হবে। সেই সই করা কপিটি স্ক্যান করে অনলাইনে আপলোড করাই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে যাঁরা ইতিমধ্যেই সেল্ফ অ্যাটেস্টেশন ছাড়া নথি আপলোড করেছেন, তাঁদের আবেদন শুধুমাত্র এই কারণে বাতিল করা হবে না বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে কৃষকবন্ধু প্রকল্পের উপভোক্তাদের যোগ্যতা নিয়ে। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি সিউড়ি ১ ডেভেলপমেন্ট ব্লক থেকে প্রকাশিত একটি মেমোতে বলা হয়েছিল, কৃষকবন্ধু প্রকল্পের উপভোক্তারাও যুব সাথীর ভাতার জন্য আবেদন করতে পারবেন। কিন্তু সম্প্রতি সেই মেমো বাতিল করে নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। নতুন মেমোতে কৃষকবন্ধু উপভোক্তাদের আবেদনের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ওয়েবসাইট থেকেও পূর্ববর্তী গাইডলাইন সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, ফলে বিভ্রান্তি আরও বেড়েছে।
এদিকে এখনও পর্যন্ত রাজ্য সরকারের তরফে স্পষ্ট ও চূড়ান্ত নির্দেশিকা জারি হয়নি। ফলে আবেদনকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যতক্ষণ না সরকারি ভাবে স্পষ্ট নির্দেশ আসে, ততক্ষণ আবেদন প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়া উচিত। পরবর্তীতে নিয়ম পরিবর্তন হলে প্রয়োজন অনুযায়ী যাচাই-বাছাই করা হবে।
সব মিলিয়ে যুব সাথী প্রকল্পে আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটাতে দ্রুত স্পষ্ট নির্দেশিকা প্রকাশের দাবি উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে। আবেদনকারীদের স্বার্থে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিষ্কার অবস্থান নেওয়াই এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন অনেকেই।





