খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১৭ ফেব্রুয়ারিঃ দেশে বেকারত্বের হার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বছরের প্রথম মাসেই বেকারত্বের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ শতাংশে। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকাশিত পরিসংখ্যানেই এই তথ্য সামনে এসেছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে যেখানে বেকারত্বের হার ছিল ৪.৮ শতাংশ, জানুয়ারিতে তা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি মন্ত্রকের অধীনস্থ জাতীয় পরিসংখ্যান অফিস(এনএসও)-র সাম্প্রতিক সমীক্ষায় দাবি করা হয়েছে, গত একমাসে গ্রাম ও শহর-উভয় ক্ষেত্রেই বেকারত্বের হার বেড়েছে। সরকারি রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে যাওয়ার ফলে সামগ্রিক সূচক বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, কর্মসংস্থানের ঘাটতি এখনও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে, বিশেষ করে শিক্ষিত যুবসমাজের মধ্যে চাকরির সুযোগ সীমিত।
সমীক্ষকদের মতে, শীতকালে নির্মাণ শিল্প, কৃষিকাজ, পরিবহণ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ কমে যায়। ফসল কাটার পরবর্তী সময় এবং আবহাওয়াজনিত কারণও গ্রামীণ কর্মসংস্থানে প্রভাব ফেলে। ফলে মৌসুমি প্রভাবের কারণে বেকারত্বের হার কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়া অস্বাভাবিক নয় বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
তবে কর্মসংস্থান নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও জোরদার হয়েছে। বিরোধীদের একাংশের দাবি, দীর্ঘমেয়াদে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য, অবকাঠামো উন্নয়ন, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে কর্মসংস্থান তৈরির প্রচেষ্টা চলছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের আমলে নিয়মিতভাবে মাসিক ও ত্রৈমাসিক শ্রমবাজারের তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে, যা কর্মসংস্থানের প্রবণতা বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
সব মিলিয়ে, নতুন বছরের শুরুতেই বেকারত্বের হার বৃদ্ধি দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা উস্কে দিয়েছে।





