খবরিয়া ২৪ ক্রীড়া ডেস্ক: এশিয়া কাপে পাকিস্তানকে তিন ম্যাচে হারানোর পর ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব বলেছিলেন, ইদানীং ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে আর তেমন প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই। সাম্প্রতিক ম্যাচে সেই কথাই যেন আবার প্রমাণিত হল। বড় মঞ্চে ভুল কৌশল আর চাপ সামলাতে না পারার খেসারত দিল পাকিস্তান দল। নেটমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় কেউ কেউ লিখছেন, “এমন খেলার চেয়ে বয়কটই ভালো।”
ম্যাচের শুরুতেই প্রশ্ন ওঠে অধিনায়ক সলমন আলি আঘার সিদ্ধান্ত নিয়ে। টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। শুরুতে পাকিস্তানের স্পিনাররা নিয়ন্ত্রিত বোলিং করলেও আক্রমণে দেরি করে আনা হয় দলের গুরুত্বপূর্ণ বোলারদের। ততক্ষণে ভারতীয় ব্যাটাররা জমে গিয়েছেন। বিশেষ করে ঈশান কিষাণ-এর আক্রমণাত্মক ইনিংস পাকিস্তানের বোলিং পরিকল্পনাকে ভেঙে দেয়। শেষ ওভারগুলোতেও বোলিং পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, যার ফলে ভারতের ইনিংস বড় স্কোরে পৌঁছয়।
১৭৬ রানের লক্ষ্য টি-২০ ফরম্যাটে অপ্রাপ্য ছিল না। কিন্তু রান তাড়ায় শুরু থেকেই ছন্দহীন দেখায় পাকিস্তানকে। প্রথম কয়েক ওভারেই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে তারা। ভারতের বোলাররা ধারাবাহিকভাবে লাইন-লেন্থ ধরে রাখেন। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ওভার শেষ হওয়ার আগেই কার্যত ম্যাচের রাশ চলে যায় ভারতের হাতে।
টি-২০ বিশ্বকাপের ইতিহাসও পাকিস্তানের জন্য সুখকর নয়। আটবারের মুখোমুখিতে একমাত্র ২০২১ ছাড়া প্রতিবারই জয় ভারতের। ২০২২ সালে মেলবোর্নে বিরাট কোহলি-র ঐতিহাসিক ইনিংস এখনও ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে টাটকা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতীয় দলে নেতৃত্ব ও কৌশলে পরিবর্তন এসেছে, আর তার সুফলও মিলেছে আইসিসি ট্রফিতে। বিপরীতে পাকিস্তান ক্রিকেটে স্থিতিশীলতার অভাব ও কৌশলগত ভুলের পুনরাবৃত্তি চোখে পড়ছে।
একসময় ভারত-পাক ম্যাচ মানেই টানটান উত্তেজনা। এখন সেই রোমাঞ্চ অনেকটাই ফিকে। ধারাবাহিক ভুল সিদ্ধান্ত, চাপের মুখে ভেঙে পড়া মানসিকতা এবং পরিকল্পনার ঘাটতি সব মিলিয়ে পাকিস্তান দল বড় ম্যাচে নিজেদের সেরা ক্রিকেট উপহার দিতে পারছে না। ফলে ঐতিহ্যবাহী এই দ্বৈরথ ক্রমশ একপেশে হয়ে উঠছে, যা সমর্থকদের হতাশই করছে।





