খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২৯ জানুয়ারিঃ অভয়া কাণ্ডকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাপানউতোর চলছে। প্রথম থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ ছিল, একটি সংবেদনশীল ও মর্মান্তিক ঘটনার ন্যায়বিচারের দাবিকে সামনে রেখে বিজেপি রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে। সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় সেই অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে।
সূত্রের খবর, আরজি কর কাণ্ডের পর অভয়ার সুবিচারের দাবিতে রাজপথে নেমেছিল বঙ্গ বিজেপি। বিরোধী দলনেতা-সহ একাধিক বিজেপি নেতার সঙ্গে অভয়ার পরিবারের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। তবে গত কয়েক মাসে সেই সম্পর্ক ধীরে ধীরে শীতল হয়ে পড়ে। অভয়ার পরিবারের ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, রাজনৈতিক প্রস্তাবে সায় না দেওয়ার পর থেকেই এই দূরত্ব তৈরি হয়েছে।
ঘনিষ্ঠ সূত্রের আরও দাবি, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে অভয়ার পরিবারের কোনও সদস্যকে প্রার্থী করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বিজেপির তরফে। তবে পরিবার সেই প্রস্তাব স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করে। অভিযোগ, তার পর থেকেই বিজেপির তরফে আগ্রহ কমতে শুরু করে। একাধিক কর্মসূচি ও আন্দোলনের পরেও যোগাযোগ রাখার ক্ষেত্রে অনীহা দেখা যায় বলে দাবি পরিবারের ঘনিষ্ঠদের।
এই প্রেক্ষাপটে তৃণমূল কংগ্রেস ফের তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। শাসকদলের নেতৃত্বের বক্তব্য,ন্যায়বিচারের লড়াই কোনওভাবেই রাজনৈতিক হাতিয়ার হতে পারে না। একটি মর্মান্তিক ঘটনার সঙ্গে রাজনীতিকে জড়িয়ে সাধারণ মানুষের আবেগকে ব্যবহার করা অনৈতিক বলেই দাবি তৃণমূলের।
অন্যদিকে,অভয়ার পরিবার শুরু থেকেই আদালতের উপর আস্থা রাখছে বলে জানা যাচ্ছে। পরিবারের ঘনিষ্ঠদের মতে, রাজনৈতিক আশ্বাস বা প্রতিশ্রুতি নয় আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমেই সুবিচার পাওয়াই তাঁদের একমাত্র লক্ষ্য। এর মধ্যেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর রাজ্য সফর ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে অভয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে,তাঁরা কোনও রাজনৈতিক মঞ্চে যেতে চান না।
এই ঘটনাপ্রবাহ নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল একটি সংবেদনশীল ও মর্মান্তিক ঘটনার ন্যায়বিচারের দাবি কি সত্যিই রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহৃত হচ্ছিল ? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে রাজ্য রাজনীতি।





