খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২৯ জানুয়ারিঃ আগামী ৩১ জানুয়ারি রাজ্য পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল (DG) পদ থেকে অবসর নিচ্ছেন রাজীব কুমার। তার আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে আলিপুর বডিগার্ড লাইনে তাঁকে আনুষ্ঠানিক বিদায় সংবর্ধনা জানানো হয়। কর্মজীবনের শেষপ্রান্তে দাঁড়িয়ে রাজ্য পুলিশের উদ্দেশে দেওয়া বিদায়ী ভাষণে বাহিনীর ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। স্পষ্ট ভাষায় রাজীব কুমার বলেন, “দেশের মধ্যে বাংলার পুলিশই সেরা।”
বিদায়ী বক্তব্যে রাজীব কুমার জানান, মাওবাদী দমন থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নানা কঠিন পরিস্থিতিতে রাজ্য পুলিশের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তাঁর কথায়, “পুলিশকে প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হয়। হোমগার্ড থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ কর্তা সকলের অবদানেই এই বাহিনী শক্তিশালী।” তিনি আরও বলেন, “আমরা আমাদের লাইন অফ ডিউটিতে প্রাণ দিতে প্রস্তুত থাকি, আর সেটাই আমাদের গর্ব। এই মানসিকতা আসে সৎ সাহস থেকে।”
পুলিশের প্রকৃত ‘অস্ত্র’ কী হওয়া উচিত, তা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন রাজীব কুমার। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সাহস মানেই গুলি চালানো বা কাউকে হত্যা করা নয়। “সাহস মানে নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো,” বলেন তিনি। রাজ্যের ভৌগোলিক গুরুত্ব তুলে ধরে ডিজি জানান, “আমাদের রাজ্য স্ট্রাটেজিক্যাল ও জিওপলিটিক্যাল দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনটি আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে। তাই চ্যালেঞ্জও অন্য রাজ্যের তুলনায় অনেক বেশি। এই পরিস্থিতিতে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রেখে আপনারা যে দায়িত্ব পালন করছেন, তাতে আমরা গর্বিত।”
রাজীব কুমারের কর্মজীবন বরাবরই আলোচনার কেন্দ্রে থেকেছে। বিশেষ করে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে, কলকাতার পুলিশ কমিশনার থাকাকালীন সারদা কাণ্ডে সিবিআই তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালাতে গেলে নজিরবিহীন পরিস্থিতি তৈরি হয়। সেই সময় প্রকাশ্যে তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে কলকাতার মেট্রো চ্যানেলে ধর্নায় বসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বার্তা স্পষ্ট ছিল অন্যায়ভাবে পুলিশ আধিকারিকদের হেনস্তা করা বরদাস্ত করা হবে না।
অবসরের আগে রাজীব কুমারের এই বিদায়ী ভাষণ রাজ্য পুলিশের মনোবল আরও চাঙা করবে বলেই মনে করছেন প্রশাসনিক মহল।





