নতুন দিল্লি, ১৯ জানুয়ারিঃ ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালত এক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি করল। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি বাগচি হঠাৎ হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়ে ভোটার সংশোধন নির্দেশনা চালানোর পদ্ধতিকে কঠোরভাবে অবৈধ ঘোষণা করেছেন। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট করে বলেছেন, “হোয়াটসঅ্যাপে কোনও নির্দেশ চালানো যাবে না। প্রতিটি সিদ্ধান্তের জন্য আনুষ্ঠানিক সার্কুলার জারি করতে হবে।”
বিচারপতি বাগচি বলেন, “এক কোটিরও বেশি মানুষ নোটিস পেয়েছেন। এতে সাধারণ মানুষের উপর যে মানসিক চাপ পড়ছে, তা আমরা বুঝতে পারছি। প্রক্রিয়াটি যেন স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।”
পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় হঠাৎ হোয়াটসঅ্যাপে নির্দেশ পাঠানো ও একের পর এক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে। মুখ্যমন্ত্রী মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে লিখিত চিঠিতে অভিযোগ করেছিলেন, কোনও লিখিত বিজ্ঞপ্তি, সার্কুলার বা আইনি নির্দেশ ছাড়াই প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হওয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রশ্ন উঠছে। মমতা বন্দ্যোপাধায় সতর্ক করেছিলেন, এতে ভোটারদের নাম অকারণে বাদ পড়ার ঝুঁকি রয়েছে, যা গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক।
তবে কমিশন চিঠির কোনও জবাব না দেওয়ায় সুপ্রিম কোর্ট হস্তক্ষেপ করেছে। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, হোয়াটসঅ্যাপে প্রেরিত কোনও বার্তা ভিত্তি হয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়া চলতে পারবে না। সকল নোটিস, তথ্য বা নির্দেশ অবশ্যই লিখিত এবং আনুষ্ঠানিক সার্কুলারের মাধ্যমে জারি করতে হবে।
শীর্ষ আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছে, যাদের নামে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ বা তথ্যগত অসঙ্গতি রয়েছে, তাদের প্রায় ১ কোটি ২৫ লক্ষ ভোটারের নাম প্রকাশ করা হবে। তালিকা গ্রাম পঞ্চায়েত, ব্লক অফিস ও ওয়ার্ড অফিসে টাঙাতে হবে। ভোটাররা ১০ দিনের মধ্যে আপত্তি জানাতে পারবেন এবং প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত সময়ও দেওয়া হবে।
আদালত স্পষ্ট করেছেন, নথি সন্তোষজনক না হলে সংশ্লিষ্ট ভোটারকে স্বশরীরে বা অনুমোদিত প্রতিনিধি মাধ্যমে শুনানির সুযোগ দিতে হবে। রাজ্য সরকারকে পর্যাপ্ত কর্মী নিয়োগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বন্দোবস্ত রাখতে হবে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে জমা দেওয়া নথির রসিদ দিতে হবে এবং আপত্তি নিষ্পত্তির কারণ লিখিতভাবে জানাতে হবে।
রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে এই নির্দেশ নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভোটার সংশোধনের প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সুপ্রিম কোর্টের এই পদক্ষেপ এক যুগান্তকারী উদাহরণ হয়ে থাকবে। রাজনৈতিক নেতারা বলছেন, “এখন থেকে ভোটারদের মানসিক চাপ কমে যাবে এবং প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত হবে।”





