কলকাতা, ১৯ জানুয়ারিঃ পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক ও টানাপড়েন চলছিল। বিশেষ করে বিএলএ-দের (BLA) শুনানিতে (SIR Hearing) উপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে সোমবার সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিল, ভোটাররা শুনানিতে হাজিরা দেওয়ার সময় চাইলে একজন সঙ্গী সঙ্গে নিয়ে যেতে পারবেন। সেই সঙ্গী যদি বুথ স্তরের এজেন্ট (BLA) হন, তাতেও কোনো বাধা থাকবে না।
পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বুথ স্তরের এজেন্টদের (BLA 2) জন্য নির্বাচনী কমিশন আগে নির্দেশ দিয়েছিল, কোনওভাবেই শুনানিকেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া যাবে না। কমিশনের নির্দেশে বলা হয়েছিল, যদি কোনও দলের এজেন্ট ঢুকতে চায়, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলের ভার্চুয়াল বৈঠকে বিএলএ-দের উপস্থিতি সংক্রান্ত অবস্থান পরিষ্কার করেছিলেন। জানান, এটি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ। পরের দিন হুগলিতে বিধায়ক অসিত মজুমদার চুঁচুড়া-মগড়া ব্লক অফিসে গিয়ে শুনানি বন্ধ করার চেষ্টা করেন। কমিশনের লিখিত ব্যাখ্যা না পেয়ে প্রায় দু’ঘণ্টা শুনানি আটকে থাকে।
এরপর রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর সমস্ত জেলাশাসকের কাছে নির্দেশিকা পাঠায়। সেখানে বলা হয়েছে, কোনও রাজনৈতিক দলের এজেন্টকে শুনানিতে উপস্থিত থাকতে দেওয়া যাবে না, তবে তার জন্য পুরো শুনানিপ্রক্রিয়া বন্ধ রাখা যাবে না।
সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, ভোটাররা চাইলে একজন সঙ্গী নিয়ে হাজিরা দিতে পারবেন। এই নির্দেশের মাধ্যমে দেখা যায় যে, ভোটারদের অধিকার এবং প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গে SIR প্রক্রিয়ার সময় যাঁদের নামে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ বা তথ্যগত অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে, তাদের প্রায় ১ কোটি ২৫ লক্ষ ভোটারের নাম প্রকাশ করার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। আদালতের নির্দেশে বলা হয়েছে, এই তালিকা গ্রাম পঞ্চায়েত, ব্লক অফিস এবং ওয়ার্ড অফিসে টাঙাতে হবে। ভোটাররা ১০ দিনের মধ্যে আপত্তি জানাতে পারবেন এবং প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার জন্য বাড়তি সময়ও দেওয়া হবে।
আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছে, নথি সন্তোষজনক না হলে সংশ্লিষ্ট ভোটারকে স্বশরীরে বা অনুমোদিত প্রতিনিধির মাধ্যমে শুনানিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। রাজ্য সরকারকে পর্যাপ্ত কর্মী নিয়োগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বন্দোবস্ত রাখতে হবে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে জমা দেওয়া নথির রসিদ দিতে হবে এবং আপত্তি নিষ্পত্তির কারণ লিখিতভাবে জানাতে হবে।
রাজ্য ও দেশের রাজনৈতিক মহলে এই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনাকে স্বাগত জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভোটারদের অধিকার রক্ষা এবং প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এবার থেকে শুনানিতে বিএলএ-এর উপস্থিতি নিয়ে আর রাজনৈতিক কেলেঙ্কারি বা বাধা থাকছে না।





