খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১৯ জানুয়ারিঃ এবার নাগরিকত্বের প্রমাণ দেখাতে হবে নেতাজি পরিবারের সদস্যকেও এই প্রশ্ন ঘিরেই তীব্র বিতর্কে রাজ্য রাজনীতি। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় শুনানির নোটিস পেলেন দেশনায়ক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর প্রপৌত্র চন্দ্র বসু। নোটিস হাতে পেয়ে বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ চন্দ্র বসু সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে প্রশ্ন তুলে বলেন, “আমি নেতাজির প্রপৌত্র। আমাকেও নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হবে! কোন পথে এগোচ্ছে ভারত?”
এই নোটিসের খবর প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে প্রবল শোরগোল। সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। অনেকের মতে, একজন স্বাধীনতা সংগ্রামীর পরিবারের সদস্যকে এভাবে শুনানির জন্য ডেকে পাঠানো অত্যন্ত অপমানজনক ও উদ্বেগজনক।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের কাজ চলছে। এনুমারেশন ফর্মে সামান্য ভুল বা তথ্য অসম্পূর্ণ থাকলেই ভোটারদের শুনানিতে ডেকে পাঠানো হচ্ছে। সেই তালিকায় সাধারণ নাগরিকদের পাশাপাশি নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন, ক্রিকেটার মহম্মদ শামি, তৃণমূলের সাংসদ ও বিধায়করাও রয়েছেন। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল নেতাজির প্রপৌত্র চন্দ্র বসুর নাম।
এই বিতর্কের মাঝে নোটিস পাঠানোর কারণ ব্যাখ্যা করেছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, এনুমারেশন ফর্মে ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় থাকা কোনও ব্যক্তির সঙ্গে ‘লিঙ্কেজ’ করার একটি কলাম রয়েছে। চন্দ্র বসু ওই কলামটি পূরণ করেননি বলেই তাঁকে শুনানিতে ডাকা হয়েছে। কমিশনের দাবি, এটি একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, এর সঙ্গে ব্যক্তিগত পরিচয় বা পরিচিতির কোনও সম্পর্ক নেই।
তবে এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন চন্দ্র বসু। তাঁর প্রশ্ন, “নেতাজির পরিবারের সদস্য হয়েও যদি নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তাহলে সাধারণ মানুষের কী অবস্থা?” পাশাপাশি তাঁর অতীত রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। একসময় বিজেপিতে যোগ দিয়ে দু’বার প্রার্থী হলেও পরে দল ছাড়েন তিনি। ফলে এই নোটিসকে ‘প্রতিশোধমূলক’ পদক্ষেপ বলেও সন্দেহ প্রকাশ করছেন অনেকেই। বিতর্ক ক্রমেই রাজনৈতিক রঙ নিচ্ছে।





