খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১৮ জানুয়ারিঃ বঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে সিঙ্গুর এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ নাম। বিধানসভা নির্বাচনের কয়েক মাস আগে সেই সিঙ্গুরের মাটিতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কর্মসূচি ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে। টাটা বিদায়ের প্রায় ১৮ বছর পর বিজেপির এই সভাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সভা থেকে কী বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী, সেদিকেই ছিল সকলের নজর।
শনিবার কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছন নরেন্দ্র মোদি। এরপর হেলিকপ্টারে সিঙ্গুরে নামেন তিনি। হেলিপ্যাড সংলগ্ন এলাকায় আগুন লাগার ঘটনায় কিছুটা চাঞ্চল্য ছড়ালেও বিজেপির তরফে চক্রান্তের অভিযোগ তোলা হয়। তবে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে।
সিঙ্গুরের সরকারি সভা মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন। মোট ৮৩০ কোটি টাকার প্রকল্পের সূচনা হয় এদিন। মোদি জানান, বাংলা পেয়েছে ৯টি অমৃত ভারত ট্রেন এবং দেশের প্রথম স্লিপার বন্দে ভারত। তিনি কলকাতা–বারাণসী, সাঁতরাগাছি–তাম্বরম ও হাওড়া–আনন্দবিহার রুটে তিনটি অমৃত ভারত ট্রেনের উদ্বোধন করেন। পাশাপাশি জয়রামবাটি–ময়নাপুর রেললাইনেরও উদ্বোধন হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বলাগড়ে এক্সটেন্ডেড পোর্ট ও গেট সিস্টেম ভবিষ্যতে লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে উঠবে, যা কর্মসংস্থান বাড়াবে। কলকাতায় ইলেকট্রিক কেটামেরন চালু হলে জলপথে যাতায়াত আরও সহজ হবে বলেও জানান তিনি। “বিকশিত ভারতের জন্য বিকশিত পূর্ব ভারত” এই বার্তাই তাঁর ভাষণে উঠে আসে।
মঞ্চে বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ বলেন, “আজ ঐতিহাসিক দিন। বিকশিত পশ্চিমবঙ্গ গড়ার পথে এগোচ্ছি।” অন্যদিকে, লকেট চট্টোপাধ্যায় তাঁর ভাষণে তৃণমূলকে কটাক্ষ করে রোহিঙ্গা ও ভোটার তালিকা ইস্যু তোলেন।
সব মিলিয়ে, ভোটের আগে সিঙ্গুরের মাটি থেকেই উন্নয়ন ও রাজনৈতিক বার্তার মেলবন্ধন ঘটাল বিজেপি নেতৃত্ব।





