খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১৭ জানুয়ারিঃ রাজস্থানে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া ঘিরে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এল। জয়পুরের হাওয়া মহল বিধানসভা কেন্দ্রের এক বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও) কীর্তি কুমার দাবি করেছেন, মুসলিম ভোটারদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য তাঁর উপর এমন প্রবল চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে যে তিনি আত্মহত্যার হুমকি দিতে বাধ্য হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, বিশেষ করে যে সব বিধানসভা কেন্দ্রে গত নির্বাচনে বিজেপি অল্প ব্যবধানে জয়ী হয়েছিল, সেখানেই এই চাপ সবচেয়ে বেশি।
কীর্তি কুমারের দাবি, স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন(এসআইআর)–এর পরে প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকা থেকে তাঁর বুথে মোট ৪৭০ জন ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার জন্য বিজেপির তরফে আপত্তি তোলা হয়েছে। এই সংখ্যা তাঁর বুথের মোট ভোটারের প্রায় ৪০ শতাংশ। তাঁর অভিযোগ, আপত্তির বেশির ভাগই মুসলিম ভোটারদের নাম নিয়ে, অথচ সার প্রক্রিয়ার সময়েই তিনি ওই সব ভোটারের নথি যাচাই করেছিলেন এবং কোনও ত্রুটি পাননি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল একটি অডিয়ো–ভিডিয়ো ক্লিপে (যার সত্যতা যাচাই করেনি খবরিয়া ২৪) কুমারকে ফোনে বলতে শোনা যায়, “আমি কালেক্টরের অফিসে গিয়ে আত্মহত্যা করব।” একই কথোপকথনে বিজেপি কাউন্সিলার সুরেশ সাইনির উদ্দেশে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “পুরো বস্তির ভোটার বাদ দিলে আপনাদের সুবিধাই হবে, মহারাজ আরামসে জিতে যাবেন।” এখানে ‘মহারাজ’ বলতে হাওয়া মহল কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক বালমুকুন্দ আচার্যকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই মুসলিম-অধ্যুষিত কেন্দ্র থেকেই মাত্র ৯৭৪ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন তিনি।
সরকারি স্কুলের শিক্ষক কীর্তি কুমার জানান, সার প্রক্রিয়ার চাপ তাঁর পড়াশোনার কাজেও প্রভাব ফেলেছে। তাঁর কথায়, দু’দিনের মধ্যে ৪৭০টি নাম বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে, অথচ এই কাজ শেষ করতে অন্তত ৭৮ ঘণ্টা সময় লাগবে। তিনি স্পষ্ট বলেন, “এভাবে কোনও নাম আমি বাদ দেব না। এটা পুরো প্রক্রিয়াই আবার নতুন করে করতে হবে।”
কুমারের আরও অভিযোগ, বিজেপি নেতারা তাঁকে সাসপেন্ড করানোর হুমকিও দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং তিনি কোনও বেআইনি বা অনৈতিক কাজ করবেন না। উল্লেখযোগ্য ভাবে, পাশের অন্তত পাঁচটি বুথের বিএলও যেখানে ভোটারের বেশির ভাগই হিন্দু সেখানে কোনও আপত্তি জমা পড়েনি। এই ঘটনায় ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।





