খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১৬ জানুয়ারিঃ SIR প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে তৃণমূল কংগ্রেস।শাসক দলের অভিযোগ, কমিশন বিজেপির ইশারায় কাজ করছে এবং রাজ্যে প্রায় দেড় কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার টার্গেট বেঁধে দেওয়া হয়েছে। সেই লক্ষ্য পূরণ করতেই ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’-র মতো কারণ দেখিয়ে ভোটারদের নোটিস পাঠানো হচ্ছে। তৃণমূলের আরও দাবি, এবারের এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিশেষভাবে টার্গেট করা হচ্ছে সংখ্যালঘু ভোটারদের।
এই অভিযোগ যে পুরোপুরি অমূলক নয়, তার ইঙ্গিত মিলছে নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব তথ্যেই। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, SIR-এর দ্বিতীয় পর্বে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির অভিযোগে সবচেয়ে বেশি নোটিস গিয়েছে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলাগুলিতেই। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট বলছে, মুর্শিদাবাদে প্রায় ৩০ শতাংশ ভোটার এই নোটিস পেয়েছেন। মালদহে সেই হার ২৯.৭৫ শতাংশ এবং উত্তর দিনাজপুরে ২৮.৪২ শতাংশ। এই জেলাগুলিতেই রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে, তুলনামূলকভাবে কম মুসলিম জনসংখ্যার জেলাগুলিতে নোটিসের হার অনেকটাই কম। বাঁকুড়া বা পুরুলিয়ার মতো জেলায় শুনানিতে তলব পেয়েছেন মাত্র ১০ থেকে ১৩ শতাংশ ভোটার। এই বৈষম্যই নতুন করে প্রশ্ন তুলছে রাজনৈতিক মহলে। বিরোধীদের দাবি, নামের বানান, বয়স বা ইপিক নম্বর সংক্রান্ত ভুল কি শুধু সংখ্যালঘু ভোটারদের ক্ষেত্রেই বেশি হচ্ছে? যদি তা না হয়, তবে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাতেই কেন এত বেশি নোটিস পাঠানো হচ্ছে সেই প্রশ্নের উত্তর চাইছে তারা।
প্রসঙ্গত, SIR শুরুর আগে বিজেপি দাবি করেছিল, বাংলায় কোটির বেশি ‘অনুপ্রবেশকারী’ ভোটারের নাম বাদ যাবে। কিন্তু বাস্তবে খসড়া ভোটার তালিকায় বাদ পড়েছে প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম, যার বড় অংশই মৃত ভোটার। অর্থাৎ বিজেপির ‘কোটি কোটি নাম বাদ’-এর দাবির সঙ্গে বাস্তব চিত্রের ফারাক স্পষ্ট। এমন পরিস্থিতিতে শমীক ভট্টাচার্য, দিলীপ ঘোষদের মতো বিজেপি নেতারা একাধিকবার কমিশনের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
এদিকে নির্বাচন কমিশনের তরফে অবশ্য পক্ষপাতের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। বাংলায় SIR-এর স্পেশ্যাল অবজার্ভার সুব্রত গুপ্ত জানিয়েছেন, লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি একটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং তা পুরোপুরি নির্ভুল নয়। তিনি স্বীকার করেছেন, এই প্রক্রিয়ায় ১৫–২০ শতাংশ পর্যন্ত ভুল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিরোধীদের দাবি, এই ‘ভুলের বোঝা’ কেন বারবার সংখ্যালঘুদের ঘাড়েই পড়ছে—সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরা।





