কলকাতা, ২৩ ডিসেম্বর: নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণার পরই বিধানসভার স্পিকারের কড়া নজরে পড়তে পারেন ভরতপুরের সাসপেন্ডেড তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। মঙ্গলবার বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দেন, হুমায়ুন কবীরের বর্তমান দলগত অবস্থান কী, তা জানতে তাঁকে বিধানসভায় ডেকে পাঠানো হতে পারে।
স্পিকার জানান, শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেস আগেই হুমায়ুন কবীরকে দল থেকে সাসপেন্ড করেছে। সেই সংক্রান্ত সমস্ত নথিপত্র বিধানসভার কাছে জমা পড়েছে। তবে সোমবার মুর্শিদাবাদে জনসভা করে হুমায়ুন যে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা করেছেন, সে বিষয়ে বিধানসভাকে কোনওরকম আনুষ্ঠানিক তথ্য এখনও তিনি দেননি। ফলে তিনি আদৌ কোন দলে রয়েছেন, নাকি দলত্যাগ করেছেন-তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন স্পিকার।
বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় আরও জানান, হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে যদি দলত্যাগ বিরোধী আইনে কোনও অভিযোগ জমা পড়ে, তবে তা আইন অনুযায়ী খতিয়ে দেখা হবে। বিধানসভার নিয়ম ও সংবিধান মেনেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।
উল্লেখ্য, সোমবার মুর্শিদাবাদের মাটি থেকে নতুন দলের আত্মপ্রকাশ ঘটান হুমায়ুন কবীর। জনসভা মঞ্চ থেকেই তিনি হলুদ-সবুজ-সাদা রঙের দলীয় পতাকা উন্মোচন করেন এবং দলের ইস্তেহার প্রকাশ করেন। শুধু তাই নয়, চমক দিয়ে আসন্ন নির্বাচনে একাধিক আসনে সদ্য গঠিত দলের প্রার্থীদের নামও ঘোষণা করেন তিনি। পাশাপাশি, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যে যে সরকারই গঠিত হোক না কেন, তাঁর দল ছাড়া সরকার গঠন সম্ভব নয়-এমন দাবিও করেন ভরতপুরের এই বিধায়ক।
এর আগেই হুমায়ুন কবীর দাবি করেছিলেন, রাজ্যের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকা থেকে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মোট ১৩৫টি আসনে প্রার্থী দেবেন তিনি। তাঁর দাবি অনুযায়ী, অন্তত ৯০টি আসনে জিতে তাঁর দল ‘কিংমেকার’-এর ভূমিকায় থাকবে। এই রাজনৈতিক ঘোষণার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার স্পিকারের সম্ভাব্য পদক্ষেপ ঘিরে নতুন করে চাপ বাড়ল হুমায়ুন কবীরের ওপর।





