খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২১ ডিসেম্বরঃ মহাত্মা গান্ধীকে ঘিরে কেন্দ্র ও রাজ্যের রাজনৈতিক টানাপোড়েন আরও স্পষ্ট হল ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পের নাম পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে। একদিকে কেন্দ্রীয় সরকার জাতির পিতার নাম সরিয়ে জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের নাম বদল করেছে, অন্যদিকে তাঁকেই ফিরিয়ে আনতে রাজ্যে নতুন করে প্রকল্পের নামকরণ করল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। রাজ্য সরকারের ‘কর্মশ্রী’ প্রকল্পের নাম বদলে করা হল ‘মহাত্মাশ্রী’। শনিবার এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তর। রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস এই নামবদলে সিলমোহর দিয়েছেন।
এই সিদ্ধান্তের ফলে এবার থেকে বাংলায় রাজ্য সরকারের নিজস্ব ১০০ দিনের কাজ প্রকল্প ‘মহাত্মাশ্রী’ নামে পরিচিত হবে। আগে যেখানে বছরে ৭৫ দিনের কাজের সুযোগ ছিল, সেখানে নতুন নামের সঙ্গে সঙ্গে কাজের দিন বাড়িয়ে ১০০ দিন করা হয়েছে। যাঁদের কাছে বৈধ জবকার্ড রয়েছে, তাঁরা এই প্রকল্পের আওতায় কাজ পাবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। আগামী অর্থবর্ষ থেকে আরও বেশি সংখ্যক গ্রামীণ দরিদ্র মানুষকে এই প্রকল্পে যুক্ত করাই রাজ্য সরকারের লক্ষ্য।
এই নামবদলের সিদ্ধান্ত এসেছে কেন্দ্রীয় সরকারের পদক্ষেপের ঠিক পরেই। গত ১৮ ডিসেম্বর, সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে দীর্ঘ তর্ক-বিতর্কের পর কেন্দ্র সরকার ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পের নাম পরিবর্তনের বিল পাশ করায়। এর ফলে MGNREGA বা মহাত্মা গান্ধী ন্যাশনাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি অ্যাক্টের নাম বদলে করা হয় ‘ভিবি জি রাম জি’। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে সংসদে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। বিরোধীদের অভিযোগ, একটি জনকল্যাণমূলক প্রকল্প থেকে জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধীর নাম মুছে দেওয়ার চেষ্টা করছে কেন্দ্র।
এই ইস্যুতে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদরা সংসদের সামনে রাতভর ধরনায় বসেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই নামবদলের তীব্র প্রতিবাদ করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, মহাত্মা গান্ধীর নাম ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার কোনও চেষ্টাই মেনে নেওয়া হবে না। সেই অবস্থান থেকেই তিনি রাজ্যের ‘কর্মশ্রী’ প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে ‘মহাত্মাশ্রী’ করার প্রস্তাব দেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের পাল্টা বার্তা হিসেবেই এই নামবদল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে যেখানে কেন্দ্রীয় সরকার প্রকল্পের নাম থেকে গান্ধীর নাম সরিয়েছে, অন্যদিকে রাজ্য সরকার সেই নামকে আরও জোরালোভাবে সামনে আনল। ফলে ১০০ দিনের কাজকে ঘিরে শুধুমাত্র প্রশাসনিক নয়, রাজনৈতিক লড়াইও আরও তীব্র হল বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।





