খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২১ ডিসেম্বরঃ রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) ইস্যুতে যখন রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে, ঠিক সেই সময়েই নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল মতুয়া অধ্যুষিত এলাকায়। শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রানাঘাটে সভার দিনই উত্তর ২৪ পরগনার বাগদার মতুয়াগড় এলাকায় একাধিক বিতর্কিত পোস্টার ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। পোস্টারে আগামী বছরের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে ‘দেখে নেওয়ার’ হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে ‘প্রতারিত মতুয়া’দের তরফে।
এদিন দুপুরে বাগদার হেলেঞ্চা বাজার এলাকায় ওই পোস্টারগুলি নজরে আসে। পোস্টারগুলিতে লেখা ছিল, “মতুয়া আর নমঃশূদ্রকে পিছন থেকে ছুরি মারছে বিজেপি। ছাব্বিশে মতুয়ারা বিজেপিকে দেখে নেবে। মতুয়াদের কেন ধোঁকা দিলে?” পোস্টারের নিচে ছোট অক্ষরে লেখা রয়েছে, “মতুয়া আর নমঃশূদ্র বিরোধী বিজেপি।” তবে কোনও রাজনৈতিক দলের নাম বা প্রতীকের উল্লেখ না থাকায় পোস্টারের উৎস নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
এই পোস্টার ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিজেপির বাগদা বিধানসভা কেন্দ্রের নেতা শিশির হাওলাদার এই পোস্টারকে তৃণমূলের চক্রান্ত বলে দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, “এটা সম্পূর্ণ পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। বিজেপি যে মতুয়াদের প্রকৃত বন্ধু, সেটা মতুয়া সমাজ জানে। তৃণমূল বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। ছাব্বিশে মতুয়ারা তৃণমূলকেই যোগ্য জবাব দেবে।”
অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের বাগদা পশ্চিম ব্লক সভাপতি নিউটন বালা বিজেপির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “এই পোস্টারের সঙ্গে তৃণমূলের কোনও সম্পর্ক নেই। যে সমস্ত মতুয়া আগে বিজেপি করতেন, তাঁরাই এখন বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। শান্তনু ঠাকুর এসআইআরের মাধ্যমে মতুয়া উদ্বাস্তুদের অনুপ্রবেশকারী বানানোর চেষ্টা করছেন। বিজেপির আসল চেহারা বুঝে মতুয়ারাই প্রতিবাদ করছেন।”
প্রধানমন্ত্রীর সফরের দিনেই মতুয়া অধ্যুষিত এলাকায় এই ধরনের পোস্টার যে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, তা মানছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। উল্লেখযোগ্যভাবে, শনিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর এক্স (পূর্বতন টুইটার) হ্যান্ডেলে মতুয়া সম্প্রদায়ের উদ্দেশে বার্তা দেন। তিনি লেখেন, “মতুয়া ও নমঃশূদ্ররা তৃণমূলের দয়ায় নয়, সিএএ-র অধিকারে মাথা উঁচু করে ভারতে বসবাস করছেন। তাঁরা ভারতীয় নাগরিক। এই সিএএ আমাদের সরকারের অবদান। বাংলায় ক্ষমতায় এলে আরও অনেক কিছু করা হবে।”
তবে বাস্তব পরিস্থিতি বলছে, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন ঘিরে মতুয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। খসড়া ভোটার তালিকায় বহু মতুয়ার নাম বাদ পড়ায় সংশয় ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন তাঁরা। রাজনৈতিক মহলের মতে, বারবার ব্যবহার হওয়ায় মতুয়া সমাজ বুঝে গিয়েছে যে তারা ‘রাজনীতির বোড়ে’। আর সেই বোধ থেকেই হয়তো এই ধরনের প্রতিবাদী বার্তার প্রকাশ।





