খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২১ ডিসেম্বরঃ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে নির্বাচনী বন্ড ব্যবস্থা বন্ধ হলেও রাজনৈতিক দলগুলির তহবিলে অর্থপ্রবাহে কোনও ভাটা পড়েনি। বরং ২০২৪–২৫ অর্থবর্ষে ইলেক্টোরাল ট্রাস্টের মাধ্যমে রাজনৈতিক অনুদান উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। নির্বাচন কমিশনের নথি অনুযায়ী, চলতি অর্থবর্ষে দেশের রাজনৈতিক দলগুলি ইলেক্টোরাল ট্রাস্টের মাধ্যমে মোট ৩,৮১১ কোটি টাকা অনুদান পেয়েছে, যা আগের অর্থবর্ষের তুলনায় প্রায় ২০০ শতাংশ বেশি।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে জমা পড়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট ১৯টি নিবন্ধিত ইলেক্টোরাল ট্রাস্টের মধ্যে ১৩টি অনুদানের বিবরণ জমা দিয়েছে। এর মধ্যে ৯টি ট্রাস্টের রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, ২০২৪–২৫ অর্থবর্ষে এই ট্রাস্টগুলির মাধ্যমে অনুদান পৌঁছেছে ৩,৮১১ কোটি টাকায়। ২০২৩–২৪ অর্থবর্ষে এই অঙ্ক ছিল মাত্র ১,২১৮ কোটি টাকা।
প্রাপ্ত অনুদানের নিরিখে এবারও সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে বিজেপি। মোট অনুদানের ৮২ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ৩,১১২ কোটি টাকা পেয়েছে শাসক দলটি। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কংগ্রেস, যারা পেয়েছে প্রায় ২০০ কোটি টাকা, যা মোট অনুদানের ৮ শতাংশ। বাকি রাজনৈতিক দলগুলি—যার মধ্যে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস, আপ, টিডিপি-সহ অন্যান্য আঞ্চলিক দল মিলিতভাবে পেয়েছে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা বা মোট অনুদানের ১০ শতাংশ।
বিজেপিকে সবচেয়ে বেশি অনুদান দিয়েছে প্রুডেন্ট ইলেক্টোরাল ট্রাস্ট। এই ট্রাস্ট ২০২৪–২৫ অর্থবর্ষে মোট ২,৬৬৮ কোটি টাকা অনুদান সংগ্রহ করেছে। এর মধ্যে ২,১৮০.০৭ কোটি টাকা একাই বিজেপিকে দেওয়া হয়েছে। এই ট্রাস্টকে অনুদান দিয়েছে জিন্দল স্টিল অ্যান্ড পাওয়ার, মেঘা ইঞ্জিনিয়ারিং, ভারতী এয়ারটেল, অরবিন্দ ফার্মা এবং টরেন্ট ফার্মাসিউটিক্যালসের মতো একাধিক বড় কর্পোরেট সংস্থা। যদিও এই ট্রাস্ট থেকে কংগ্রেস, তৃণমূল, আপ ও টিডিপির মতো দলগুলিও অনুদান পেয়েছে, তবে সিংহভাগ অর্থই গিয়েছে বিজেপির ঝুলিতে।
তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে প্রোগ্রেসিভ ইলেক্টোরাল ট্রাস্ট। এই ট্রাস্টের প্রাপ্ত অনুদান ৯১৭ কোটি টাকা, যার মধ্যে ৯১৪.৯৭ কোটি টাকা রাজনৈতিক দলগুলিকে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৮০.৮২ শতাংশ অর্থ বিজেপির খাতায় জমা পড়েছে। এই ট্রাস্টে অনুদান দিয়েছে টাটা গ্রুপের একাধিক সংস্থা, যার মধ্যে রয়েছে টাটা সন্স, টিসিএস, টাটা স্টিল, টাটা মোটরস ও টাটা পাওয়ার।
উল্লেখ্য, ২০২৩–২৪ অর্থবর্ষে বিজেপি মোট ৩,৯৬৭.১৪ কোটি টাকা অনুদান পেয়েছিল। তার মধ্যে ১,৬৮৫.৬২ কোটি টাকা, অর্থাৎ ৪৩ শতাংশ এসেছিল নির্বাচনী বন্ডের মাধ্যমে। চলতি বছরে সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচনী বন্ডকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করার পর সেই পথ বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে বেসরকারি সংস্থা বা ব্যক্তি চেক, ডিমান্ড ড্রাফ্ট, ইউপিআই ও ব্যাঙ্ক ট্রান্সফারের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলিকে অনুদান দিতে পারছেন। সেই অনুদানের বিস্তারিত তথ্য নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। নতুন ব্যবস্থায় রাজনৈতিক অনুদানে স্বচ্ছতা কতটা নিশ্চিত হবে, তা নিয়েই এখন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে চলছে জোর আলোচনা।





