আব্দুল হাই, বাঁকুড়া: হাজারবার দরবার করেও মেলেনি পাকা সেতু। সেই দীর্ঘদিনের অবহেলারই মাশুল দিতে হল এক তরতাজা প্রাণ দিয়ে। অসুস্থ ছেলের জন্য ওষুধ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো থেকে প্রায় ৩৫ ফুট নিচে নদীগর্ভে পড়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হল এক যুবকের। ঘটনাকে ঘিরে শোক ও ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা এলাকা।
ঘটনাটি ঘটেছে বাঁকুড়ার ইন্দাস থানার অন্তর্গত ভগবতীপুর গ্রামে। গ্রামের পাশ দিয়েই বয়ে গিয়েছে শালী নদী। বছরের অধিকাংশ সময় নদী শুকনো থাকলেও বর্ষা এলেই তার রূপ বদলে যায়। দু’কূল ছাপিয়ে প্রবল স্রোতে বইতে থাকে জল, ফলে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে গ্রাম। অথচ এই নদীর উপর দিয়েই গ্রামের যাতায়াতের একমাত্র পথ। দীর্ঘদিন ধরেই এলাকাবাসীরা প্রশাসনের কাছে পাকা সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন। একাধিকবার আবেদন, দরখাস্ত জমা পড়লেও বাস্তবে কোনও স্থায়ী সমাধান হয়নি। একসময় নদীর মাটি পরীক্ষার কাজ শুরু হলেও তা শেষ পর্যন্ত থমকে যায়।
পাকা সেতু না হওয়ায় বাধ্য হয়েই গ্রামবাসীরা নিজেদের উদ্যোগে একটি অস্থায়ী বাঁশের সাঁকো তৈরি করেন। সেই সাঁকো দিয়েই প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হয় স্কুলপড়ুয়া ছাত্রছাত্রী, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, অসুস্থ মানুষসহ সকলকে। বৃহস্পতিবার রাতে সেই বিপজ্জনক সাঁকোই কেড়ে নিল এক পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারীকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভগবতীপুর গ্রামের বাসিন্দা ৩৪ বছর বয়সি সঞ্জয় ঘোষের ছোট ছেলে বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ছিল। সন্তানের জন্য ওষুধ আনতে তিনি রাতে বাইক নিয়ে রসুলপুর বাজারে যান। কাজ সেরে বাড়ি ফেরার সময় শালী নদীর উপর থাকা বাঁশের সাঁকো পার হতে গিয়েই দুর্ঘটনা ঘটে। ভারসাম্য হারিয়ে বাইকসহ সাঁকো থেকে ছিটকে পড়েন তিনি এবং প্রায় ৩৫ ফুট নিচে নদীগর্ভে পড়ে যান।
রাতের অন্ধকারে প্রথমে বিষয়টি কেউ বুঝতে পারেননি। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা নদীর বালির মধ্যে পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করার চেষ্টা করেন, কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ। খবর পেয়ে ইন্দাস থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
এই ঘটনায় গোটা গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একদিকে অসুস্থ শিশুকে রেখে পরিবারের কর্তার মৃত্যু, অন্যদিকে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ দু’য়ের মধ্যেই উত্তাল এলাকা। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দ্রুত পাকা সেতু নির্মাণ না হলে এমন দুর্ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে। তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য, মানুষের জীবনের মূল্য থাকলে প্রশাসনের এখনই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।





