কলকাতা, ১২ ডিসেম্বরঃ রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া জোরকদমে চললেও বৃহস্পতিবার, অর্থাৎ ফর্ম জমা দেওয়ার শেষ দিনেও নিজের এনুমারেশন ফর্ম জমা দেননি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কৃষ্ণনগরের সভা থেকে তিনি নিজেই এই তথ্য জানিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের সূচনা করেন।
মমতার বক্তব্য, “আমি এখনও ফর্ম ফিলআপ করিনি। কেন করিনি? তিনবার সেন্ট্রাল মিনিস্টার ছিলাম। সাতবার এমপি হয়েছি। তিনবার মুখ্যমন্ত্রী হয়েছি। আজ আমাকে নাগরিক প্রমাণ করতে হবে?” তাঁর এই মন্তব্যেই শুরু হয়েছে রাজ্যজুড়ে চর্চা। মুখ্যমন্ত্রীর কটাক্ষ, “এর চেয়ে নাকখত দেওয়া অনেক ভালো!” পাশাপাশি তিনি বিজেপি ও নির্বাচান কমিশনকে কঠোর আক্রমণ করে বলেন, “ওই দাঙ্গাবাজদের কাছে আমি প্রমাণ দেব না যে আমি দেশের নাগরিক। দেশ স্বাধীন হওয়ার সময় তোমরা কোথায় ছিলে?”
নির্বাচন কমিশন অবশ্য জানিয়েছে, বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রথম পর্বে ফর্ম জমা না দিলেও অসুবিধা নেই। রাজনৈতিক নেতা, বিচারব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিত্ব, শিল্পী, খেলোয়াড় এই শ্রেণির পরিচিত মানুষজন দ্বিতীয় পর্বে নথি জমা দিলেই হবে।
সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ তোলেন, এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে অযথা তাড়াহুড়ো করছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। তাঁর কথায়, “আমরা বলেছিলাম সময় নিয়ে করো। এত তাড়াহুড়ো কেন? হোয়াই সো হারি?” তিনি দাবি করেন, এই দ্রুততার আড়ালে রয়েছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য। মমতার অভিযোগ, “ভোটের জন্য বাংলায় জোর করে দখলদারি করতে চাইছে। কিন্তু আমরা থাকতে সেটা হতে দেব না।”
এসআইআর প্রসঙ্গে তিনি আবারও স্পষ্ট করেন, তৃণমূল এই প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে নয়, কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যে চাপে ফেলে কাজ করানোর চেষ্টা সমস্যার সৃষ্টি করছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে উত্তাপ বাড়ছে। বিরোধীরা প্রশ্ন তুলছে, মুখ্যমন্ত্রীর এই অবস্থান কি সাংবিধানিক প্রক্রিয়াকে অস্বীকার? অন্যদিকে তৃণমূলের দাবি, নাগরিকত্ব প্রমাণের নামে সাধারণ মানুষের উপর অযথা চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।





