কলকাতা, ৮ ডিসেম্বরঃ ইন্ডিগোর বিমান পরিষেবায় গত এক সপ্তাহ ধরে চলা ব্যাপক বিশৃঙ্খলায় কার্যত দিশেহারা যাত্রীরা। নির্ধারিত উড়ান বাতিল, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিলম্ব, বিকল্প বিমান না পাওয়া, সব মিলিয়ে দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে নাজেহাল অবস্থা যাত্রীদের। সোমবারও একই ছবি দিল্লি, বেঙ্গালুরু, চেন্নাই-সহ একাধিক বিমানবন্দর থেকে শতাধিক উড়ান বাতিল করেছে সংস্থা। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকারের পরিকল্পনাহীনতাকেই অপরাধী করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সোমবার দমদম বিমানবন্দর থেকে কোচবিহারের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মুখ্যমন্ত্রী। ইন্ডিগোর পরিষেবা বিপর্যয় নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “বেশ কয়েকদিন ধরে বিমান পরিষেবা না থাকায় সাধারণ মানুষের চরম সমস্যা হচ্ছে। কোনও পরিকল্পনা না থাকায় এমন বিপর্যয় তৈরি হয়েছে। এর দায় কেন্দ্রের।” তাঁর মতে, যাত্রীদের জন্য আগে থেকেই বিকল্প ব্যবস্থা রাখা উচিত ছিল। পরিস্থিতির জেরে ক্ষুব্ধ যাত্রীরা আদালতের দ্বারস্থও হতে পারেন বলে মনে করেন তিনি।
মমতার বক্তব্য, “বিমান বাতিলের পর যাত্রীদের বলা হচ্ছে অন্য পথে যেতে। সেটা কি সম্ভব? বিমানে যে রাস্তায় দু’ঘণ্টা লাগে, ট্রেনে সেখানে সময় লাগে ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টা। তার উপর আগাম টিকিট, রিজার্ভেশনের ঝামেলা—সব মিলিয়ে যাত্রীরা ভীষণ সমস্যায় পড়ছেন। কেন্দ্রের বিজেপি সরকার শুধু ভোটের কথা ভাবে, মানুষের নয়। আমরা মানুষের সমস্যাকে গুরুত্ব দেই।”
ইন্ডিগোর পরিষেবায় সঙ্কট শুধু কলকাতায় নয়, গোটা দেশজুড়ে। সোমবারই দিল্লি থেকে ১৩৪টি, বেঙ্গালুরু থেকে ১২৭টি এবং চেন্নাই থেকে ৭১টি বিমান বাতিল করেছে সংস্থা। কলকাতা, মুম্বই, আহমেদাবাদ, ভাইজ্যাগ প্রায় সব বড় বিমানবন্দরেই একই ছবি। বহু যাত্রী বহু ঘণ্টা অপেক্ষার পরও না উড়তে পেরে বাধ্য হচ্ছেন ট্রেন কিংবা সড়কপথ বেছে নিতে।
এই অবস্থায় পাইলটদের পাশে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “পরিষেবা বজায় রাখতে পাইলটদের ওভারটাইম করানো সমাধান নয়। তাদেরও বিশ্রাম দরকার। তাই আগে থেকেই বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি রাখা জরুরি ছিল।” তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় অসতর্কতা ও অব্যবস্থাপনার ফলেই বিপর্যয় এই মাত্রায় পৌঁছেছে।
যাত্রীদের ভোগান্তি ক্রমেই বাড়ছে। কেন্দ্র এখনও পরিস্থিতি সামলাতে কোনও স্পষ্ট রূপরেখা দেয়নি। ইন্ডিগোর তরফেও সঙ্কট কাটানোর নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা না হওয়ায় আতঙ্কে সাধারণ মানুষ। পরিষেবা কবে স্বাভাবিক হবে, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। রাজনৈতিক চাপানউতোরও তুঙ্গে বিমান পরিষেবা বিপর্যয়কে সামনে রেখে তৃণমূল সরকারের এই তীব্র সমালোচনা কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত আরও বাড়াবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।





