নয়াদিল্লী, ১ নভেম্বরঃ রবিবার রাজধানী দিল্লির রামলীলা ময়দান যেন বিরোধী রাজনীতির শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চ। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগে সরব ‘ইন্ডিয়া’ জোট। সকাল থেকেই সভাস্থলে ভিড় জমাতে শুরু করেন বিরোধী দলের নেতা-কর্মী-সমর্থকেরা। কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে হুডখোলা বাসে সেখানে পৌঁছন জোটের প্রতিনিধিরা। মঞ্চ থেকে নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে একের পর এক আক্রমণ শানান বিরোধী নেতারা। সেই তালিকায় উল্লেখযোগ্য ছিল সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এবং আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদবের বক্তব্য।
বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতেই বাংলার নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে আনেন অখিলেশ। তাঁর অভিযোগ, বাংলায় ভোট লুটের ঘটনা দেশের মানুষের অজানা নয়। নির্বাচনের আগে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও নিরাপত্তাবাহিনী মোতায়েন এবং ভোটার তালিকা থেকে বহু নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের ভোটে বিজেপি জিততে পারবে না বলেই নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে ভোটে কারচুপির পথ বেছে নেওয়া হচ্ছে। যদিও এগুলি তাঁর রাজনৈতিক অভিযোগ।
শুধু বাংলা নয়, উত্তরপ্রদেশের ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচন নিয়েও সরব হন সপা প্রধান। তাঁর দাবি, সেই নির্বাচনে সমাজবাদী পার্টির বহু বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি জানানো হলেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্টে অভিযোগের প্রমাণ চেয়ে তাঁকেই নোটিস পাঠানো হয়েছিল বলে দাবি অখিলেশের। রামপুর লোকসভা নির্বাচন এবং বিভিন্ন উপনির্বাচনে পুলিশি বাধা ও ভয় দেখিয়ে ভোটারদের ভোট দিতে না দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি। অখিলেশের বক্তব্য, ভোটাধিকারই নাগরিকের গণতান্ত্রিক শক্তি।
অন্যদিকে, মহাভারতের পাশাখেলার উপমা টেনে বিজেপিকে বিঁধেছেন তেজস্বী যাদব। তাঁর অভিযোগ, সরাসরি লড়াইয়ে না নেমে ভোটের হিসাব নিয়ে কারসাজির মাধ্যমে জিততে চাইছে বিজেপি। মহাভারতের যুদ্ধের সূচনা যেমন পাশাখেলার মধ্য দিয়ে হয়েছিল, তেমনই আজ বিরোধীদেরও এক অন্য ধরনের লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিহারের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার প্রবণতা বিহার থেকেই শুরু হয়েছে। জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি জানান, এই প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে বিরোধীদের লড়াই চলবে। বিহার পিছিয়ে আসবে না। ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা, ভোটাধিকার রক্ষা এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ এই তিন দাবিকে সামনে রেখেই রামলীলা ময়দানের সভায় সুর চড়াল ‘ইন্ডিয়া’ জোট।





