বারাকপুর, ৩০ অক্টোবরঃ তৃণমূলের দুই প্রাক্তন পুরপ্রধানকে বিজেপিতে নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে গেরুয়া শিবিরের অন্দরের টানাপড়েন ক্রমশ প্রকাশ্যে আসছে। উত্তম দাস ও প্রশান্ত চৌধুরীকে ঘিরে শুরু হওয়া বিতর্কে এ বার স্পষ্ট হয়ে গেল দলের দুই শিবিরের অবস্থান। বারাকপুরের বিধায়ক কৌস্তভ বাগচীর আপত্তিকে প্রকাশ্যে সমর্থন করলেন জগদ্দলের বিধায়ক রাজেশ কুমার এবং নৈহাটির বিধায়ক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়। অন্য দিকে, বীজপুরের বিধায়ক সুদীপ্ত দাস সরাসরি দাঁড়ালেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা নোয়াপাড়ার বিধায়ক অর্জুন সিংয়ের পাশে। ফলে দুই প্রাক্তন পুরপ্রধানকে ঘিরে বিতর্ক এখন বিজেপির অভ্যন্তরীণ সমীকরণের লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।
বিতর্কের সূত্রপাত গত সপ্তাহে। এক মঞ্চে অর্জুন সিংয়ের সঙ্গে বারাকপুর পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান উত্তম দাসকে দেখা যাওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়। উত্তম এবং টিটাগড় পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান প্রশান্ত চৌধুরী বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন, এমন সম্ভাবনার কথা সামনে আসতেই তীব্র আপত্তি জানান কৌস্তভ। এমনকি ওই দুই নেতাকে দলে নেওয়া হলে রাজ্য বিজেপির দফতরের সামনে আত্মহত্যার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
এর পরেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। কৌস্তভের আপত্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উত্তমের বাড়িতে বিজয়ার শুভেচ্ছা জানাতে যান বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের একাংশ। পাল্টা কৌস্তভের সঙ্গে তৃণমূল ও সিপিএম নেতাদের পুরনো ছবি সামনে এনে প্রচার শুরু করে দলের অন্য অংশ। কৌস্তভের সমালোচনায় সরব হয়েছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা প্রাক্তন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষও।
তবে বৃহস্পতিবার ছবিটা আরও স্পষ্ট হয়। জগদ্দলের বিধায়ক রাজেশ কুমার বলেন, ‘‘বারাকপুরের বিধায়ক যা বলেছেন, মনের কথা বলেছেন। কৌস্তভের বক্তব্যকে সমর্থন করি।’’ অন্য বিধায়কের এলাকায় অন্য নেতার প্রবেশ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। নৈহাটির বিধায়ক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য, কৌস্তভ নিশ্চয়ই প্রমাণ হাতে রেখেই কথা বলেছেন। তাঁর মতে, কৌস্তভ দলবিরোধী কোনও কথা বলেননি, বরং কাদের দলে নেওয়া উচিত, তা নিয়ে সতর্ক করেছেন।
অন্য দিকে, ফেসবুকে খোলা চিঠি লিখে অর্জুনের পাশে দাঁড়িয়েছেন সুদীপ্ত দাস। অর্জুনের রাজনৈতিক অবদান নিয়ে প্রশ্ন তোলার বিরোধিতা করে অতীতের নানা প্রসঙ্গের পাশাপাশি মণীশ শুক্লা হত্যাকাণ্ডের কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।
সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠছে, নতুনদের জায়গা করে দিতে গিয়ে পুরনো রাজনৈতিক সমীকরণ কতটা বদলাতে চাইছে বিজেপি? উত্তম ও প্রশান্তকে নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও স্পষ্ট নয়। তবে তাঁদের ঘিরে বারাকপুরের গেরুয়া শিবিরে যে মতভেদ তৈরি হয়েছে, তা আর আড়ালে থাকছে না।





