কোচবিহার, ৩০ অক্টোবরঃ দুর্গাপুজোর রেশ এখনও পুরোপুরি কাটেনি। তার মধ্যেই বাঙালির উৎসবের ক্যালেন্ডারে এবার কালীপুজোর প্রস্তুতি। আলোর উৎসবকে ঘিরে শহরজুড়ে যখন সাজো সাজো রব, তখন বিশেষ চমক নিয়ে হাজির হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে কোচবিহারের নেতাজি রোড সংলগ্ন নিউটাউন সৎস্মৃতি সংঘ। এ বছর তাদের কালীপুজো পা দিচ্ছে রজতজয়ন্তী বর্ষে। ২৫ বছরের পথচলাকে স্মরণীয় করে রাখতে এ বার পুজোর থিম ‘তারাপীঠের অলৌকিক রহস্য’। শুক্রবার সকালে খুঁটিপুজোর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু হল পুজোর প্রস্তুতি।
শহরের পুজোর মানচিত্রে নিউটাউন সৎস্মৃতি সংঘের পরিচয় একটু আলাদা। কারণ, এই পুজোর পরিচালনা থেকে শুরু করে যাবতীয় আয়োজন সব দায়িত্বই সামলান মহিলারা। পুজোর পরিকল্পনা, থিম নির্বাচন, মণ্ডপসজ্জা থেকে দর্শনার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই সামনে থাকেন মহিলা উদ্যোক্তারা। তাঁদের উদ্যোগ ও সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই গত ২৫ বছর ধরে এগিয়ে চলেছে এই পুজো।
এ বারের থিমেও রয়েছে বিশেষ ভাবনা। বীরভূমের তারাপীঠ শুধু একটি তীর্থস্থান নয়, তার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাংলার লোকবিশ্বাস, সাধনা, আধ্যাত্মিকতা এবং নানা অলৌকিক কাহিনি। সেই পরিচিত পরিবেশ ও রহস্যময় আবহকেই মণ্ডপসজ্জার মাধ্যমে তুলে ধরতে চান উদ্যোক্তারা। দর্শনার্থীরা যাতে মণ্ডপে প্রবেশ করেই তারাপীঠের আধ্যাত্মিক পরিবেশের অনুভূতি পান, সেই লক্ষ্যেই সাজানো হচ্ছে এ বারের পরিকল্পনা।
শুক্রবারের খুঁটিপুজোকে ঘিরে ক্লাব প্রাঙ্গণে ছিল উৎসবের মেজাজ। উপস্থিত সদস্যা ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে দেখা যায় বাড়তি উৎসাহ। রজতজয়ন্তী বর্ষ হওয়ায় এ বারের আয়োজনকে ঘিরে প্রত্যাশাও অনেক বেশি। শুধু থিমের অভিনবত্ব নয়, ২৫ বছরের ঐতিহ্য ও মহিলাদের সম্মিলিত উদ্যোগকেও বিশেষ ভাবে তুলে ধরতে চান তাঁরা।
সব মিলিয়ে এ বার নিউটাউন সৎস্মৃতি সংঘের কালীপুজোয় থাকছে ঐতিহ্য, আধ্যাত্মিকতা ও রহস্যের মেলবন্ধন। এখন থেকেই দর্শনার্থীদের অপেক্ষা, রজতজয়ন্তীর বছরে তারাপীঠের সেই অলৌকিক আবহ কতটা জীবন্ত করে তুলতে পারেন মহিলা উদ্যোক্তারা।





