শিলিগুড়ি, ৩০ অক্টোবরঃ ফুলেশ্বরীর পর এবার কি মহাবীরস্থানেও বন্ধ হতে চলেছে রেলগেট? এই প্রশ্ন ঘিরেই নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে শিলিগুড়ির অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যকেন্দ্র মহাবীরস্থানে। রেলগেট বন্ধ হয়ে গেলে ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে কতটা প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে চিন্তিত ব্যবসায়ীদের একাংশ। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার সকালে মহাবীরস্থান পরিদর্শনে গেলেন শিলিগুড়ির বিধায়ক তথা পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ। রেলগেটের ভবিষ্যৎ, মাছ ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের সমস্যা এবং শহরের ফুটপাত দখল সব ক’টি বিষয়েই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন তিনি।
মহাবীরস্থানের জোড়া রেলগেট বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জল্পনা। বিশেষ করে ফুলেশ্বরী রেলগেট বন্ধ হওয়ার পর সেই আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। এ দিন বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রী জানান, আন্ডারপাস কিংবা রেলব্রিজ রয়েছে, এমন এলাকায় রেলগেট না রাখার সিদ্ধান্ত রেলের সর্বভারতীয় নীতির অন্তর্গত। তবে স্থানীয় মানুষের অসুবিধা এবং ব্যবসায়ীদের স্বার্থ উপেক্ষা করে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয় বলেই তাঁর বক্তব্য। এ বিষয়ে রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি জেলা প্রশাসন, শিলিগুড়ি পুরনিগম এবং পুলিশ কমিশনারেটকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানসূত্র খোঁজার আশ্বাস দেন তিনি।
অন্য দিকে, মহাবীরস্থানে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের উদ্যোগে শুরু হওয়া একটি কাজ দীর্ঘদিন ধরে অসমাপ্ত পড়ে রয়েছে বলে অভিযোগ মাছ ব্যবসায়ীদের। তাঁদের বক্তব্য, এই কাজের সঙ্গে বহু মানুষের জীবিকা জড়িয়ে রয়েছে। কাজ শেষ না হওয়ায় প্রতিদিনই নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। এ দিন পুরনিগমের আধিকারিকদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকা ঘুরে দেখেন শংকর। দ্রুত অসমাপ্ত কাজ শেষ করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আশ্বাস দেন তিনি।
তবে শুধু ব্যবসায়ীদের সমস্যার সমাধান নয়, শহরের ফুটপাত দখল নিয়েও এদিন কড়া অবস্থান নিতে দেখা যায় মন্ত্রীকে। রাস্তার উপর দোকান বসিয়ে পথচারীদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি। তাঁর বার্তা, শহরের ফুটপাত সাধারণ মানুষের হাঁটার জন্য। সেখানে দখলদারি চলতে দেওয়া যায় না।
সব মিলিয়ে মহাবীরস্থানে এদিনের মন্ত্রী-সফর ঘিরে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে ব্যবসায়ী মহলে। রেলগেট নিয়ে শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত হয়, অসমাপ্ত কাজ কত দ্রুত শেষ হয় এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করতে প্রশাসন কতটা সক্রিয় হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে মহাবীরস্থান।





