শিলিগুড়ি, ৩০ অক্টোবর: গ্রামবাংলার উন্নয়নের ভিত মজবুত করতে পঞ্চায়েত স্তরের কর্মীদের ভূমিকার উপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাইছে রাজ্য সরকার। সেই লক্ষ্যেই কর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবি ও সমস্যাগুলি বিবেচনা করে সম্মানিক বৃদ্ধির আশ্বাস দিলেন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। শুক্রবার শিলিগুড়ির দীনবন্ধু মঞ্চে সারা বাংলা গ্রামীণ সম্পদ কর্মী সংগঠনের উত্তরবঙ্গ সমাবেশে যোগ দিয়ে তিনি জানান, আগামী দিনে কর্মীদের সম্মানিক আরও বাড়ানোর বিষয়টি সরকারের বিবেচনাধীন।
গ্রামীণ উন্নয়নের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে পঞ্চায়েত স্তরের কর্মীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া থেকে শুরু করে উন্নয়নমূলক কাজের বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁদের উপরেই নির্ভর করতে হয় প্রশাসনকে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে সম্মানিক বৃদ্ধি-সহ একাধিক দাবি নিয়ে সরব কর্মীদের একাংশ। এ দিনের সমাবেশে সেই দাবিগুলির প্রেক্ষিতে মন্ত্রীর আশ্বাস নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি করেছে কর্মী মহলে। যদিও কবে থেকে এবং কতটা সম্মানিক বাড়ানো হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট ঘোষণা করেননি তিনি।
এ দিন উত্তরবঙ্গের প্রশাসনিক পরিকাঠামো নিয়েও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে বিভিন্ন দফতরের শূন্যপদ পূরণের বিষয়টি। উত্তরবঙ্গের প্রশাসনিক কাজে গতি আনতে শূন্যপদ পূরণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকায় চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগের বিষয়টিও সরকারের ভাবনায় রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। এর ফলে স্থানীয় স্তরে প্রশাসনিক পরিষেবা আরও মজবুত করা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আবাস যোজনা নিয়েও এ দিন বিশেষ বার্তা দেন দিলীপ ঘোষ। প্রকল্পের আবেদনগুলি খতিয়ে দেখে প্রকৃত উপভোক্তাদের চিহ্নিত করার আশ্বাস দেন তিনি। অর্থাৎ, সরকারি আবাস প্রকল্পের সুবিধা যাতে যোগ্য পরিবারগুলির কাছেই পৌঁছয়, তা নিশ্চিত করতে আবেদন যাচাইয়ের উপর জোর দিতে চাইছে সরকার।
অন্য দিকে, সমাবেশের মঞ্চ থেকে রাজনৈতিক প্রসঙ্গেও মুখ খোলেন মন্ত্রী। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন তিনি। সব মিলিয়ে কর্মীদের সম্মানিক বৃদ্ধি থেকে প্রশাসনিক শূন্যপদ পূরণ, আবাস যোজনার স্বচ্ছতা একাধিক বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরলেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী। তবে আশ্বাসগুলি বাস্তবে কত দ্রুত কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর উত্তরবঙ্গের গ্রামীণ সম্পদ কর্মীদের।





