কলকাতা, ২৯ অক্টোবরঃ প্রাথমিক শিক্ষায় আমূল বদলের ভাবনা রাজ্য সরকারের। এ বার থেকে একটি শ্রেণির দায়িত্বে থাকবেন একজন নির্দিষ্ট শিক্ষক। পড়ুয়ারা বছরভর কতটা শিখল, তাদের পঠনপাঠনে কতটা উন্নতি হল, তার দায়ও নিতে হবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে এই ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনার কথা জানালেন স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন। তাঁর বক্তব্য, শিক্ষক ও পড়ুয়াদের মধ্যে দায়িত্বের সম্পর্ক স্পষ্ট হলে শিক্ষার মানোন্নয়নের কাজ আরও কার্যকর হবে।
রাজ্যে সরকার বদলের পর শিক্ষাক্ষেত্রে একাধিক সংস্কারের কথা বলছে নতুন সরকার। জাতীয় শিক্ষানীতি কার্যকর করার উদ্যোগও সেই পরিকল্পনার অংশ। পূর্বতন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার জাতীয় শিক্ষানীতি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল। এ বার প্রাথমিক স্তরে পঠনপাঠনের ধরন বদলে প্রতিটি পড়ুয়ার শেখার অগ্রগতির উপর নজর দিতে চাইছে রাজ্য।
নতুন ব্যবস্থার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী জানান, প্রাথমিক স্তরে বাংলা, ইংরেজি, অঙ্ক কিংবা ভূগোলের জন্য আলাদা আলাদা শিক্ষক রাখার পরিবর্তে এক একটি শ্রেণির দায়িত্ব একজন শিক্ষকের হাতে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর কথায়, প্রাথমিক স্তরে পড়ানোর জন্য নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের নির্দিষ্ট যোগ্যতা অর্জন করেছেন শিক্ষকরা। তাই শ্রেণির সার্বিক দায়িত্ব তাঁদের হাতে দেওয়া যেতে পারে। সপ্তাহের বিভিন্ন দিনে শিক্ষকরা শ্রেণি বদল করে পড়াবেন, তবে প্রতিটি শ্রেণির অগ্রগতির দায় নির্দিষ্ট শিক্ষকের উপর থাকবে।
ধরা যাক, কোনও শ্রেণিতে ২০ জন পড়ুয়া রয়েছে। বছর শেষে তাদের মধ্যে কত জন পড়তে শিখল, কত জনের শেখার ঘাটতি রয়ে গেল, তার হিসাব দিতে হবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে। মন্ত্রীর বক্তব্য, ২০ জনের মধ্যে ১৫ জনও যদি পড়তে না পারে, তবে কেন এমন হল, তার ব্যাখ্যা দিতে হবে শিক্ষককে। অর্থাৎ শুধু সিলেবাস শেষ করাই নয়, পড়ুয়ারা কতটা শিখল, সেটিও হবে মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি।
শিক্ষক-পড়ুয়ার অনুপাত উন্নত করার কথাও জানিয়েছেন মন্ত্রী। তাঁর দাবি, প্রাথমিক স্তরে বর্তমানে প্রতি ২৬ জন পড়ুয়া পিছু একজন শিক্ষক রয়েছেন। প্রস্তাবিত ১৩ হাজার শিক্ষক নিয়োগ সম্পন্ন হলে অনুপাত কমিয়ে প্রতি ২০ জন পড়ুয়া পিছু একজন শিক্ষক করার লক্ষ্য রয়েছে। মাধ্যমিক স্তরেও শিক্ষক-পড়ুয়ার অনুপাত কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
শিক্ষকদের বেতনবৃদ্ধির ক্ষেত্রেও পড়ুয়াদের অগ্রগতিকে গুরুত্ব দেওয়ার ভাবনার কথা জানিয়েছেন দীপক বর্মন। তবে এই ব্যবস্থা কী ভাবে কার্যকর হবে, তার মূল্যায়ন-পদ্ধতি কী হবে এবং বেতনবৃদ্ধির সঙ্গে তার সম্পর্ক কতটা সরাসরি হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত নিয়ম এখনও স্পষ্ট নয়।
বৃহস্পতিবার উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদে শিক্ষা প্রশাসন, পরিকাঠামো ও পঠনপাঠন নিয়ে বৈঠকে এই বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হয়। উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন জেলার প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান এবং শিক্ষা পর্ষদ ও সংসদের কর্তারা। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষকদের দায়বদ্ধতা বাড়ানোর পাশাপাশি পড়ুয়াদের শেখার মান কতটা উন্নত হয়, এখন সেটাই দেখার।





