রায়গঞ্জ, ২৯ অক্টোবরঃ শিবির বদলের জল্পনার মধ্যেই চোপড়ার বিধায়ক হামিদুল রহমানকে সরাসরি নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জমি দখলের অভিযোগ তুলে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা পুরনো মামলাগুলির ফাইল নতুন করে খোলার নির্দেশ দিলেন পুলিশকর্তাদের। বৃহস্পতিবার রায়গঞ্জে প্রশাসনিক বৈঠক ও জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, উত্তর দিনাজপুরে জমি দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাম ও তৃণমূলের শাসনকালে আদিবাসী এবং সনাতনীদের জমি দখল হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। সরকারি জমিতে অবৈধ নির্মাণ থাকলে তা সরিয়ে দেওয়ারও বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী।
সম্প্রতি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি সমর্থনের কথা জানিয়েছিলেন হামিদুল। তার দু’দিনের মধ্যেই রায়গঞ্জের সভা থেকে তাঁকে ‘মাফিয়া’ ও ‘গুন্ডা’ বলে আক্রমণ করেন শুভেন্দু। যদিও বিধায়কের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি আদালতে প্রমাণিত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনও তথ্য এ দিনের বক্তব্যে উঠে আসেনি।
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ৩৪ বছরের বাম শাসন এবং ১৫ বছরের তৃণমূল জমানায় উত্তর দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকায় জমি দখল হয়েছে। সেই জমি উদ্ধারে পুলিশকে সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। বিশেষ করে চোপড়া, ইসলামপুর, গোয়ালপোখর ও চাকুলিয়ায় দখল হওয়া চা-বাগানের জমি উদ্ধারের কথা বলেন। সরকারি জমিতে বেআইনি নির্মাণ হয়ে থাকলে তা ভেঙে পরিষ্কার করার দায়িত্বও নেন মুখ্যমন্ত্রী।
ইসলামপুরের পুলিশ সুপার-সহ ডিআইজি ও আইজিকে উদ্দেশ করে শুভেন্দুর নির্দেশ, চোপড়ার বিধায়কের বিরুদ্ধে থাকা পুরনো মামলাগুলির ফাইল খুলে দেখতে হবে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং পঞ্চায়েত ভোটের পর যাঁদের বিরুদ্ধে অত্যাচারের অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে নতুন করে এফআইআর করার কথাও বলেন তিনি। পরবর্তী প্রশাসনিক বৈঠক চোপড়া ও ইসলামপুরে করার ইঙ্গিত দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এলাকায় কারা দাপট দেখাচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা হবে।
এ দিনের সভায় উত্তর দিনাজপুরের রাজনৈতিক সমীকরণও ছিল আলোচনায়। গোয়ালপোখরের বিধায়ক গোলাম রব্বানি এবং চাকুলিয়ার বিধায়ক মিনহাজুল আরফিন আজাদ সভায় উপস্থিত ছিলেন না বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও, চাকুলিয়ার বিধায়ক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিজের নেত্রী এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নেতা বলে উল্লেখ করেন।
জমি দখল, রাজনৈতিক হিংসা ও পুরনো মামলার তদন্ত এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখে উত্তর দিনাজপুরে প্রশাসনকে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এখন দেখার, ঘোষণার পরে পুলিশি তদন্ত ও জমি উদ্ধারের ক্ষেত্রে কী পদক্ষেপ করা হয়।





