কলকাতা, ২৯ অক্টোবরঃ ভোটাধিকার রক্ষার লড়াইকে আরও জোরদার করতে পথে নামছে বিরোধী জোট ইন্ডিয়া। আগামী রবিবার, ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে প্রস্তাবিত প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার জন্য পড়ুয়া, যুব, মহিলা এবং সমাজের বিশিষ্টদের আহ্বান জানালেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, ভোট চুরির মাধ্যমে গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করা হচ্ছে। তাই নীরব দর্শক হয়ে না থেকে গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে মমতা জানান, ইন্ডিয়া জোটের এই কর্মসূচি ভোট চুরির বিরুদ্ধে প্রতিবাদের মঞ্চ। সেখানে তাঁর বক্তা হিসাবেও থাকার কথা। পোস্টে তৃণমূল নেত্রীর আবেদন, “আর চুপ থাকবেন না। ভোটাধিকারই যখন লুটের মুখে, তখন তা নিয়ে চুপ থেকে লাভ নেই। বরং আসুন, গণতন্ত্র আর সংবিধান বাঁচাতে হাতে হাত ধরে দাঁড়াই সকলে।”
বাংলা-সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ভোট পরিচালনা নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী শিবির। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিও তুলেছেন বিরোধী নেতারা। তাঁদের অভিযোগ, নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে কমিশন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছে না। যদিও এই অভিযোগগুলি বিরোধীদের রাজনৈতিক অবস্থান, সেগুলির সত্যতা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
এই প্রেক্ষাপটে ফের দিল্লিতে প্রতিবাদের কর্মসূচি নিয়েছে ইন্ডিয়া জোট। এর আগে একই ইস্যুতে বিরোধীদের একাধিক প্রতিবাদ কর্মসূচি হয়েছে। এ বার রামলীলা ময়দানের জমায়েতকে আরও বড় করে তুলতে চাইছে বিরোধী শিবির। সেই লক্ষ্যেই দলীয় কর্মী-সমর্থকদের গণ্ডি পেরিয়ে সাধারণ নাগরিকদেরও সামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মমতা।
তাঁর বক্তব্য, ভোটাধিকার কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের বিষয় নয়, বরং প্রত্যেক ভারতীয়ের গণতান্ত্রিক অধিকার। তাই বাংলা ও অন্যান্য রাজ্যে ভোট নিয়ে ওঠা অভিযোগের জবাব চাইতে সকলকে সরব হতে হবে। বিশেষ করে পড়ুয়া, যুবসমাজ, মহিলা এবং সমাজের বিশিষ্টদের এই আন্দোলনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ভোটাধিকার, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা এবং সংবিধান রক্ষার প্রশ্নকে সামনে রেখে ১ নভেম্বরের কর্মসূচিকে রাজনৈতিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতে চাইছে বিরোধী জোট। এখন নজর, দিল্লির রামলীলা ময়দানের এই জমায়েতে বিরোধী নেতাদের উপস্থিতি কতটা হয় এবং সেখান থেকে কী বার্তা উঠে আসে।





