কলকাতা, ২৭ অক্টোবরঃ ‘সকালে জমা, বিকেলে খরচ’ দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের এই বার্তার বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে এখন রাজ্য রাজনীতিতে চর্চা তুঙ্গে। উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায় কিশোরীকে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে ধৃত প্রহ্লাদ দাসের পুলিশের গুলিতে মৃত্যুর ঘটনায় সেই বিতর্কই নতুন করে সামনে এল। আর সেই আবহে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করলেন আর জি করের নির্যাতিতার মা তথা পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথ। তাঁর দাবি, ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধে অভিযুক্তদের ক্ষেত্রে এনকাউন্টারই উপযুক্ত পদক্ষেপ। এমন পরিণতি চান নিজের মেয়ের অপরাধীদেরও।
মঙ্গলবার গাইঘাটার ঘটনার খবর সামনে আসার পর রত্না বলেন, ‘‘আগেকার সরকার ধর্ষণে অভিযুক্তদের বাঁচানোর চেষ্টা করেছিল। বর্তমান সরকার বিচারের রাস্তা তৈরি করছে। এমন জঘন্য কাজ যারা করে, তাদের বাঁচিয়ে রেখে লাভ কী? এনকাউন্টারই এদের জন্য ঠিক। আমি চাই, আমার মেয়ের অপরাধীদেরও এই পরিণতি হোক। যত এরকম হবে, তত ওরা ভয় পাবে।’’
গাইঘাটায় এক কিশোরীর ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধারের পর ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ ওঠে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রহ্লাদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে ঘটনার পুনর্নির্মাণ শেষে ফেরার পথে পুলিশের সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে পালানো এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। পুলিশের দাবি, আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালানো হলে জখম হন প্রহ্লাদ। হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনাকে ঘিরেই এনকাউন্টার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের অগস্টে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কর্তব্যরত অবস্থায় এক তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধারকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে তীব্র আন্দোলন হয়েছিল। ধর্ষণ ও খুনের ওই মামলায় সঞ্জয় রায়কে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে তদন্ত নিয়ে নির্যাতিতার পরিবারের অসন্তোষ এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ ঘিরে মামলাটি এখনও আলোচনায় রয়েছে। মেয়ের জন্য ন্যায়বিচারের দাবিতে আন্দোলনের পথ ধরে রাজনীতিতে আসেন রত্না দেবনাথ। বর্তমানে তিনি পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক।
বারুইপুরের ঘটনার পর গাইঘাটাতেও অভিযুক্তের পুলিশের গুলিতে মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। অপরাধ দমনে কঠোর পদক্ষেপের দাবি এক দিকে, অন্য দিকে বিচারবহির্ভূত হত্যার আশঙ্কা ও আইনি প্রক্রিয়ার গুরুত্ব দুইয়ের টানাপড়েনেই নতুন মাত্রা পেয়েছে বিতর্ক। রত্নার মন্তব্য সেই আলোচনাকে আরও উসকে দিল। অপরাধের বিচার কি আদালতের মাধ্যমেই হওয়া উচিত, নাকি এমন কঠোর পদক্ষেপেই ভয় তৈরি হবে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহল।





