কলকাতা, ২৭ অক্টোবরঃ আন্দোলনের ময়দানে বিরোধীদের হাত ধরতে আপত্তি নেই। কিন্তু ভোটের লড়াইয়ে? সেখানে নিজের শক্তিতেই ভরসা রাখতে চায় প্রদেশ কংগ্রেস। পুরভোটের আগে সেই অবস্থানই আরও স্পষ্ট করে দিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত, অন্যায়ের বিরুদ্ধে রাস্তায় বিরোধীরা একজোট হলেও নির্বাচনী লড়াইয়ে সেই ঐক্য অব্যাহত থাকবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ফলে কলকাতা ও হাওড়ার পুরভোটে বিরোধী জোটের সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনার মধ্যেই কংগ্রেসের একলা চলার বার্তা তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মাস ঘুরলেই পুরভোট হওয়ার কথা। সেই লক্ষ্যে অন্য দলগুলির মতো কংগ্রেসও প্রার্থী বাছাইয়ের প্রস্তুতি শুরু করেছে। দলের কর্মীদের পাশাপাশি বাইরের আগ্রহীদের কাছ থেকেও বায়োডাটা চেয়েছে তারা। আবেদন জমা দেওয়ার শেষ দিন ২৮ অক্টোবর। এই প্রেক্ষিতে শুভঙ্কর বলেন, “কংগ্রেস নিজের মতো করে প্রস্তুতি নিচ্ছে। সময়ের দাবি অনুসারে সিদ্ধান্ত হবে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে রাস্তায় একসঙ্গে অনেকে থাকেন। কিন্তু বাড়িতে আলাদা আলাদা হয়ে ফিরে যান।”
শুভঙ্করের এই মন্তব্যে স্পষ্ট, আন্দোলনের মঞ্চে বিরোধীদের ঐক্যকে নির্বাচনী সমঝোতার পূর্বাভাস হিসেবে দেখতে নারাজ কংগ্রেস নেতৃত্ব। জোট হলে আসন ভাগাভাগির কারণে দলের বহু কর্মীর প্রার্থী হওয়ার সুযোগ সীমিত হতে পারে। অন্য দিকে, একক ভাবে লড়লে সংগঠনের শক্তি যাচাইয়ের পাশাপাশি বেশি সংখ্যক কর্মীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া সম্ভব। পুরভোটের প্রস্তুতিতে সেই দিকটিও গুরুত্ব পাচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।
এদিন শুভঙ্করের উপস্থিতিতে হাওড়া পুরসভার এক প্রাক্তন কংগ্রেস কাউন্সিলর তৃণমূল ছেড়ে পুরনো দলে ফিরে আসেন। উপস্থিত ছিলেন পার্থসারথি ভৌমিক ও শুভ্রজ্যোতি দাস-সহ অন্যরা। পুরভোটের আগে এই যোগদান কংগ্রেসের সাংগঠনিক প্রস্তুতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
অন্য দিকে, কলকাতা ও হাওড়ার পুরভোটে ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবিতে প্রদেশ কংগ্রেস, তৃণমূল, সিপিএম-সহ একাধিক পক্ষের প্রতিনিধিরা যৌথ ভাবে চিঠি দিয়েছেন। তাতে প্রাক্তন সাংসদ জহর সরকার-সহ বিশিষ্টজনেরা সই করেছেন। তবে ভোটারদের অধিকার নিয়ে যৌথ উদ্যোগ মানেই নির্বাচনী জোট নয়, শুভঙ্করের বক্তব্যে সেই পার্থক্যই স্পষ্ট।
এদিকে কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের বৈধতা নিয়ে আদালতে মামলা এবং পুরভোট নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠক ঘিরেও তৎপরতা রয়েছে। সব মিলিয়ে পুরভোটের আগে বিরোধী ঐক্যের সমীকরণ যেমন আলোচনায়, তেমনই নিজেদের রাজনৈতিক জমি মজবুত করার পরীক্ষায় নামতে প্রস্তুত কংগ্রেস।





