কলকাতা, ২৬ অক্টোবরঃ পুরভোটের দামামা বাজার অপেক্ষা, তার আগেই তৃণমূলের নাম ও প্রতীকের মালিকানা নিয়ে আইনি লড়াইয়ে নতুন মোড়। জোড়াফুলের দখল কার হাতে থাকবে, সেই প্রশ্নে সুপ্রিম কোর্টে চলা মামলায় নথি জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়ল দুই শিবিরেরই। সোমবার ছিল প্রয়োজনীয় নথি ও হলফনামা জমা দেওয়ার নির্ধারিত দিন। কালীঘাট শিবির নথি জমা দিলেও গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি। আরও সময় চেয়ে আবেদন করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী। সেই আবেদন মঞ্জুর করে শীর্ষ আদালত নথি জমার জন্য ১০ দিন সময় দিয়েছে। পাল্টা হলফনামা জমা দিতে কালীঘাট শিবিরও পাবে আরও ১০ দিন।
আদালতে ঋতব্রত শিবিরের আইনজীবী জানান, প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত করতে আরও সময় দরকার। দুর্গাপুজোর কারণে স্ট্যাম্প পেপার পেতে সমস্যার কথাও তুলে ধরা হয়। দু’সপ্তাহ সময় চাওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত ১০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করে দেয় আদালত। অন্য দিকে, এই সময় বাড়ানোর আবেদনে আপত্তি জানান কালীঘাট শিবিরের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে আদালতের নির্দেশে আপাতত নথি জমার প্রক্রিয়া আরও কিছুটা পিছিয়ে গেল। ঋতব্রত শিবিরের হলফনামা খতিয়ে দেখে নিজেদের বক্তব্য জানানোর জন্য কালীঘাট শিবিরও ১০ দিন সময় পাবে।
এই আইনি লড়াইয়ের সূত্র তৃণমূল কংগ্রেসের সাম্প্রতিক ভাঙন। বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর দুই শিবিরের সংঘাত ক্রমশ প্রকাশ্যে আসে। গত ৬ অক্টোবর রাজ্যের দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশন অস্থায়ী ভাবে দুই পক্ষকে আলাদা নাম ও প্রতীক দিয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছিল ফুটবলার প্রতীক। অন্য দিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক ছিল খাম। কিন্তু দলের পুরনো পরিচয় ও ঘাসের উপর জোড়াফুল প্রতীকের অধিকার নিয়ে বিরোধ মেটেনি। সেই বিবাদের নিষ্পত্তি চেয়েই শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে দুই পক্ষ।
এর মধ্যেই সোমবার নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে ঋতব্রতর নথি ছিনতাইয়ের অভিযোগে। তাঁর দাবি, গণতান্ত্রিক তৃণমূলের কর্মীরা শনিবার সড়কপথে দিল্লির উদ্দেশে নথি নিয়ে রওনা দিয়েছিলেন। সোমবার ভোর সাড়ে তিনটে নাগাদ হরিয়ানায় তাঁদের ট্রাক আটকে নথি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়। এই অভিযোগ তুলে এক্স হ্যান্ডলে সরব হয়েছেন বিরোধী দলনেতা। যদিও কালীঘাট শিবির এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
সব মিলিয়ে পুরভোটের আগে দলের নাম ও প্রতীকের প্রশ্নে রাজনৈতিক সংঘাতের পাশাপাশি আইনি লড়াইও আরও দীর্ঘায়িত হল। আগামী দিনে দুই পক্ষের নথি ও পাল্টা হলফনামা খতিয়ে দেখে আদালত কী অবস্থান নেয়, এখন নজর সেদিকেই।





