কলকাতা, ২৬ অক্টোবরঃ বিধানসভা জয়ের পর এ বার কলকাতা পুরসভার দখল নেওয়ার প্রস্তুতিতে নতুন সমীকরণ সাজাচ্ছে বিজেপি। লক্ষ্য শুধু রাজনৈতিক লড়াইয়ে জয় নয়, নাগরিক পরিষেবার ময়দানেও নিজেদের দক্ষতার প্রমাণ দেওয়া। আর সেই লক্ষ্যেই পানীয় জল, নিকাশি, রাস্তা ও পথবাতির মতো দৈনন্দিন সমস্যার দ্রুত সমাধানে অভিজ্ঞ প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলরদের দলে টেনে পুরভোটে প্রার্থী করার কথা ভাবছে গেরুয়া শিবির। স্থানীয় স্তরে স্বচ্ছ ভাবমূর্তি, জনসংযোগ এবং পরিষেবা দেওয়ার অভিজ্ঞতাকেই সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাইয়ের প্রধান মাপকাঠি করা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।
সূত্রের দাবি, উত্তর কলকাতার সাত, দক্ষিণ কলকাতার ১২ এবং যাদবপুর-টালিগঞ্জ এলাকার তিন প্রাক্তন কাউন্সিলরকে নিয়ে প্রাথমিক ভাবে ২২ জনের একটি তালিকা তৈরি হয়েছে। তাঁদের মধ্যে বিদায়ী পুরবোর্ডের অন্তত চার প্রাক্তন মেয়র পারিষদ এবং তিন বরো চেয়ারম্যান রয়েছেন বলে বিদ্রোহী তৃণমূল শিবিরের দাবি। এই সংখ্যা বেড়ে ৩০-এ পৌঁছতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে। তবে এখনও কাউকেই বিজেপির প্রতীকে প্রার্থী করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
বিজেপির এই ভাবনার নেপথ্যে রয়েছে পুর পরিষেবা পরিচালনার বাস্তব চ্যালেঞ্জ। রাজ্য সরকার পরিচালনা এবং কলকাতা পুরসভার দৈনন্দিন কাজকর্ম যে এক নয়, তা উপলব্ধি করছে গেরুয়া নেতৃত্ব। ওয়ার্ডে পানীয় জলের সমস্যা, বন্ধ নিকাশি, জঞ্জাল সাফাই কিংবা ভাঙা রাস্তা নিয়ে নাগরিকদের ক্ষোভ সামলাতে প্রয়োজন অভিজ্ঞ জনপ্রতিনিধি। বর্তমানে কলকাতায় বিজেপির পরিচিত পুর-অভিজ্ঞ মুখ বলতে সজল ঘোষ, মীনা দেবী পুরোহিত, বিজয় ওঝা ও সন্তোষ পাঠকের মতো কয়েক জনই রয়েছেন। বাকি ওয়ার্ডগুলিতে সেই অভিজ্ঞতার ঘাটতি মেটানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
তবে পুরনো তৃণমূল কাউন্সিলরদের দলে নেওয়ার ভাবনায় রয়েছে রাজনৈতিক ঝুঁকিও। দীর্ঘদিনের বিজেপি কর্মীদের একাংশের প্রশ্ন, যাঁরা এত দিন তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন, তাঁদের টিকিটের দাবিকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হবে ? সেই ক্ষোভ প্রশমিত করতেই রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বারবার পুরনো কর্মীদের গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলছেন। কলকাতা পুরভোটে দলের নির্বাচনী কমিটির সদস্য বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারিরও দাবি, প্রার্থী বাছাইয়ে বিজেপির পুরনো কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তাঁর বক্তব্য, তৃণমূল থেকে কাউকে না নিয়েও কলকাতায় প্রায় ২০০ আসন জেতার ক্ষমতা রয়েছে দলের।
অন্য দিকে, বিজেপির সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় জায়গা পেতে তৎপরতা বাড়ছে। কলকাতার ২০৯টি ওয়ার্ডের জন্য ইতিমধ্যেই প্রায় তিন হাজার বায়োডাটা জমা পড়েছে বলে দলীয় সূত্রের খবর। পুরনো কর্মীদের পাশাপাশি ছাত্র, যুব ও তথ্যপ্রযুক্তি শাখা থেকেও নতুন মুখ তুলে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
সব মিলিয়ে কলকাতা পুরভোটে বিজেপির সামনে দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ এক দিকে সংগঠনের পুরনো কর্মীদের প্রত্যাশা পূরণ, অন্য দিকে নাগরিক পরিষেবায় অভিজ্ঞ মুখ বেছে নেওয়া। শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক আনুগত্য, স্থানীয় গ্রহণযোগ্যতা এবং জয়ের সম্ভাবনার মধ্যে কোন সমীকরণকে অগ্রাধিকার দেয় দল, এখন নজর সেদিকেই।





