সিতাই, ২৪ অক্টোবরঃ প্রতিবেশীদের মধ্যে কথাকাটাকাটি। তার জেরেই কি রাতের অন্ধকারে পরপর তিনটি বাড়িতে হামলা ? কোচবিহারের সিতাই ব্লকের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী কায়েতের বাড়ি এলাকায় ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। অভিযোগ, শুক্রবার রাত প্রায় ১০টা নাগাদ কয়েক জনের একটি দল তিনটি বাড়িতে ঢুকে আসবাবপত্র তছনছ করে, ভাঙচুর চালায় মোটরবাইকে। পাশাপাশি সোনা-রুপোর গয়না ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগও উঠেছে। যদিও হামলার নেপথ্যে কারা, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
শনিবার সকাল থেকে ঘটনার কথা সামনে আসতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। অভিযোগকারীদের দাবি, শনিবার সকাল ১১টা নাগাদ স্থানীয় বাসিন্দা জয়নাল মিয়ার পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী অনিতা রায়ের কথাকাটাকাটিকে কেন্দ্র করে বিবাদের সূত্রপাত। পরে দু’পক্ষ বাড়ি ফিরে গেলেও রাতের দিকে পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয় বলে অভিযোগ।
জয়নাল মিয়ার পরিবারের সদস্য মর্জিনা বিবির দাবি, পারিবারিক বিষয় নিয়ে অনিতা রায়ের সঙ্গে বচসা হয়েছিল। সেই ঘটনার পর রাতে লোকজন নিয়ে তাঁদের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। বাড়ির জিনিসপত্র ভাঙচুরের পাশাপাশি মোটরবাইকও ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। তবে এই অভিযোগের সত্যতা এখনও স্বাধীন ভাবে যাচাই করা যায়নি।
অন্য দিকে, অনিতা রায়ের বক্তব্য, সীমান্তবর্তী এলাকায় বিএসএফের রাস্তা দিয়ে গরু চলাচলে বাধা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে তিনি প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই জয়নাল মিয়ার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর বিরোধ তৈরি হয়। তাঁকে মারধরের হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে হামলার জন্য কাউকে পাঠানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অনিতা।
এলাকার আরও দুই পরিবারের সদস্যও হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ তুলেছেন। জয়নাল মিয়ার প্রতিবেশী আইয়ুব মিয়ার মেয়ে রিয়া খাতুন এবং জয়নালের সম্পর্কে ভাগিনা ইসমাইল মিয়ার দাবি, তাঁদের বাড়িতেও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। ইসমাইলের অভিযোগ, বাড়ি থেকে প্রায় ৫০ হাজার টাকা ও রুপোর গয়না খোয়া গিয়েছে।তিনটি পরিবারের তরফে সিতাই থানায় অভিযোগ জানানোর কথা বলা হয়েছে।





