শিলিগুড়ি, ২০ অক্টোবরঃ দুর্গাপুজোর প্রতিমা বিসর্জনে ভিড় সামলানো, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গোটা প্রক্রিয়াকে আরও সুশৃঙ্খল করে তুলতে বিশেষ উদ্যোগ নিল শিলিগুড়ি পুরনিগম। বিসর্জন ঘাটে চালু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে আধুনিক কনভেয়র সিস্টেম। প্রযুক্তির সাহায্যে প্রতিমা বিসর্জনের কাজ আরও সহজ ও নিরাপদ করে তোলার পাশাপাশি ধর্মীয় রীতি, ঐতিহ্য এবং প্রতিমার প্রতি যথাযথ সম্মান বজায় রাখার উপরেও জোর দেওয়া হচ্ছে।
জেলা শাসক হরিশংকর পানিককর জানিয়েছেন, মঙ্গলবার বিকেল ৪টে থেকে ৫টার মধ্যে এই কনভেয়র সিস্টেমের পরীক্ষামূলক কাজ চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পরীক্ষার মাধ্যমে ব্যবস্থাটির কার্যকারিতা খতিয়ে দেখা হবে। সব কিছু পরিকল্পনামাফিক চললে প্রতিমা বিসর্জনের সময় এই প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে গোটা প্রক্রিয়া পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রতিবছর শিলিগুড়ির এই বিসর্জন ঘাটে প্রায় ২০০-রও বেশি দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জন করা হয়। ফলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক প্রতিমা বিসর্জন করতে গিয়ে ঘাটে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা, প্রতিমা নামানোর সময় অতিরিক্ত ভিড় এবং গোটা প্রক্রিয়ায় সমন্বয় বজায় রাখার মতো বিষয়গুলিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এই পরিস্থিতিতে কনভেয়র সিস্টেম ব্যবহারের পরিকল্পনাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। আধুনিক এই ব্যবস্থার সাহায্যে প্রতিমা বিসর্জনের কাজ আরও নিয়ন্ত্রিত ভাবে পরিচালনা করা সম্ভব কি না, পরীক্ষামূলক কাজের মাধ্যমে তা যাচাই করা হবে। তবে চূড়ান্ত ভাবে ব্যবস্থা চালুর আগে এর কার্যকারিতা ও নিরাপত্তার দিকগুলি খতিয়ে দেখাই প্রশাসনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিমা বিসর্জন দুর্গোৎসবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় পর্ব। তাই এই প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি প্রচলিত রীতি ও ধর্মীয় ভাবাবেগের প্রতি সম্মান বজায় রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। সরকারি নির্দেশিকা মেনে পুরো ব্যবস্থা পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
শিলিগুড়ি পুরনিগমের এই উদ্যোগের লক্ষ্য, বিসর্জন ঘাটে নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার উন্নতি ঘটিয়ে দর্শনার্থী, পুজো উদ্যোক্তা এবং প্রশাসনের কাজ আরও সহজ করা। পরীক্ষামূলক কাজের ফলের উপরেই নির্ভর করবে কনভেয়র সিস্টেমের কার্যকর ব্যবহার। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী দিনে শিলিগুড়ির প্রতিমা বিসর্জন ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।





